আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল টেম্পারিংয়ের মত ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে অস্ট্রেলিয়ান পেসার ক্যামেরুন ব্যানক্রফটের বিরুদ্ধে।
টিভি ফুটেজে যখন ধরা পড়ল হলুদ কাপড়ের মতো কিছু লুকানোর চেষ্টা করছিলেন ক্যামেরন ব্যানক্রফট। কেপ টাউন টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বল টেম্পারিংয়ের চেষ্টার দায় স্বীকার করে নে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ওপেনার ব্যানক্রফট।
কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্টে শুরু থেকে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে কেপ টাউন টেস্টে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় সেশনে এ বিতর্কের জন্ম দেয়।
টিভিতে দেখা যায়, হলুদ সদৃশ বস্তু ব্যানক্রফটের হাতে। এরপর চলে বল বিকৃতির চেষ্টা। বিষয়টি যে গোপনীয় তা আরও পরিষ্কার হয় যখন এই বস্তুটি তিনি ফেলে দেন নিজের পরিধান করা ট্রাউজারের ভেতর! এ ঘটনার পর লজ্জিত হোন তিনি; এবং নিদেজের ভুলের দায় স্বীকার করে নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ও ওপেনার ব্যানক্রফট দুজনই।
এ বিষয়ে ২৮ বছর বয়সী স্টিভ স্মিথ বলেন, বল টেম্পারিংয়ের বিষয়টি ছিল দলীয়, তা অকপটে স্বীকার করে নেন স্মিথ। তিনি বলেন ‘লাঞ্চের সময় আমরা এ নিয়ে সকলে আলোচনা করেছিলাম। এতে যেটা হয়েছে, তাতে আমি গর্বিত নই। আমার এবং দলের ও লিডারশিপ গ্রুপের সততা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ক্রিকেটীয় চেতনার সঙ্গে এটি মোটেও যায় না। অবশ্যই এটা করা উচিত হয়নি। আমার নেতৃত্বে আর এমন হবে না।’
এদিকে এনডিটিভি জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে অসিদের প্রধান কোচ ড্যারেন লেহ্যামানও জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কোচের জড়িত থাকার খবর নাকচ করে দেন অসি অধিনায়ক। তিনি জানান, ‘কোচদের কেউ জড়িত ছিল না। এটা ক্রিকেটার ও লিডারশিপ গ্রুপেরই ভাবনা। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আর হবে না। আমার নেতৃত্ব এটা প্রথমবার হলো। আমরা অনুতপ্ত।’
এমতাবস্থায় এরকম লজ্জাজনক ঘটনার পর অসি অধিনায়ক অনুতপ্ত হলেও তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহি জেমস সাদারল্যান্ড জানিয়েছেন, ‘ আইসিসির বাইরেও আমরা এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবো; প্রয়োজনে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দিবো।’
স্মিথের বিরুদ্ধে এরকম গুরুতর অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে তিনি ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরু টেস্টে গত বছরের মার্চ মাসেও বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ আসে।