ফুটবলারদের কান্না, গোলরক্ষকের বিস্ময়কর ভুল ও অসাধারণ এক গোলের ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে আবারো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
৩-১ গোলের এ জয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে জিদানের শিষ্যরা। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে রিয়ালের এটি রেকর্ড তের নম্বর শিরোপা।
আবারো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা মাদ্রিদের ঘরে। ফ্রেঞ্চম্যান জিনেদিন জিদান দায়িত্ব নেয়ার পর টানা তিন মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ।
তের নম্বর শিরোপা জয়ের লক্ষ্য রিয়ালের শুরুটা ভালো হয়নি। ইউক্রেনের কিয়েভে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় ছিল লিভারপুলের আধিপত্য। যদিও কোস্টারিকার গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের কল্যাণে একাধিকবার রক্ষা পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
নিজেদের রক্ষণ সামলে দু'একবার সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারছিলেন না রোনালদো-মার্সেলোরা। এর মাঝেই মাদ্রিদ অধিনায়ক রামোসের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে কাঁধে চোট পান লিভারপুল তারকা সালাহ।
প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে খেলায় যোগ দিলেও কিছুক্ষণের মধেই মাঠ ছেড়ে যেতে হয় মিসরীয় স্ট্রাইকারকে।
রিয়ালের কারভাহালও চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। সালাহ-কারভাহালের কান্নার রেশেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়।
প্রায় নিষ্প্রাণ ফাইনালের আসল উত্তেজনা শুরু হয় বিরতির পর।
রিয়াল স্ট্রাইকার বেনজেমার পায়ে রীতিমতো বল তুলে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক ক্যারিয়ুস। জার্মান গোলকিপারের খেয়লিপনায় হঠাৎই পিছিয়ে পড়ে অল রেডরা।
অবশ্য চার মিনিট যেতে না যেতেই ক্ষতিটা পুষিয়ে নেন সাদিও মানে। ফরাসি স্ট্রাইকারের কল্যাণে ম্যাচে ফেরে অল রেডরা।
তবে গ্যারেথ বেইলের অবিশ্বাস্য দুই গোলে পাল্টে যা ম্যাচের চিত্র। বদলি হিসেবে নেমে নজরকাড়া ওভার-হেড কিকে ওয়েলস উইঙ্গার তাক লাগিয়ে দেন প্রতিপক্ষের ভক্তদেরও। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বদলি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরপর দুই ফাইনালে গোলের রেকর্ড গড়েন তিনি।
লিভারপুলের দুঃস্বপ্নের শেষ হয়নি তখনো। খেলার শেষদিকে ত্রিশ গজ দূর থেকে নেয়া বেইলের শট ঠেকাতে গিয়ে ক্যারিয়ুসের হাত ফসকে বল অল রেডদের জালে ঢুকে যায়। আর ৩-১ গোলের জয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করে রিয়াল মাদ্রিদ।