রাশিয়া বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার স্পেন ও পর্তুগাল— এবারের দুই ফেভারিটের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে পরস্পরের মোকাবেলায়। আসরের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুদল। ১৫ জুন সোচিতে হবে পর্তুগাল-স্পেনের লড়াই। গ্রুপের অন্য দুই দল ইরান ও মরক্কো।
এবারের ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে দাপট দেখানো স্প্যানিশরা চায় নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা জিততে।আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল স্বপ্ন দেখছে ইউরোর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের।
কয়েকদিন পরই পর্দা উঠবে বিশ্বকাপ ফুটবলের। রাশিয়ার মস্কোয় ১৪ জুন শুরু হবে মর্যাদার এই লড়াই। ৩২টি দলের মধ্য থেকে সেরা দলটির হাতে শিরোপা উঠবে ১৫ জুলাই।
এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বড় দলের মোকাবেলা দেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। আটটির মধ্যে কেবল দুটি গ্রুপে একসঙ্গে দুটি বড় দল পড়েছে। বি-গ্রুপে স্পেন-পর্তুগাল আর সি-গ্রুপে ইংল্যান্ড-বেলজিয়াম। এর মধ্যে স্পেন ও পর্তুগাল এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট।
২০১৪ বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন ভুলে রাশিয়ায় আবারো বিশ্বজয় করতে চায় স্পেন। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা গেল আসরের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। তবে এবার শক্তিশালী দল নিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে নামছে ইউরোপের অন্যতম সেরা দলটি।
বাছাইপর্বে অসাধারণ ফুটবল খেলা স্পেন সাম্প্রতিক সময়ের অপ্রতিরোধ্য এক দলে পরিণত হয়েছে। বাছাইপর্বে ইংল্যান্ড ছাড়া ইউরোপের আর কোনো দল এত কম গোল খায়নি। মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৬-১ গোলের দাপুটে জয়ে জুলেন লোপেতেগির শিষ্যরা নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ভালোভাবেই।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইউরো বাছাইয়ে বেলজিয়াম ও জার্মানির পর সবচেয়ে বেশি গোল করেছে স্পেন। ৩৬টি গোলের বিপরীতে গোল হজম করেছে মাত্র তিনটি। স্পেনের গোলপোস্টের দায়িত্বে আছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা কীপার ডেভিড দ্য হেয়া। বাছাইয়ের নয় ম্যাচের ছয়টিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা কোনো গোল হজম করেননি।
লেফ্ট-ব্যাক জর্ডি আলবা ও সেন্টার-ব্যাক সার্জিও রামোসের মতো তারকা ডিফেন্ডাররা আছেন স্পেনের রক্ষণের দায়িত্বে। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণে রয়েছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ডেভিড সিলভা, ইস্কো ও দিয়েগো কস্তার মতো তারকা খেলোয়াড়রা।
বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই স্প্যানিশরা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে বিশ্বকাপের আরেক ফেভারিট পর্তুগালকে। ২০১৬ সালের ইউরোজয়ী পর্তুগিজরা এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিটের কাতারে রয়েছে। যদিও বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচেই হেরে বিপদে পড়েছিল ফার্নান্দো সান্তোসের শিষ্যরা।
তবে এরপর টানা নয়টি জয় ও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় রাশিয়ার টিকেট নিশ্চিত করে ফেলেন রোনালদোরা। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বাছাইপর্বে দলের হয়ে একাই পনেরো গোল করেন। ইউরোপিয়ান বাছাইয়ে পোল্যান্ডের রবার্ট লেভানদস্কি ছাড়া রোনালদোর চেয়ে বেশি গোল আর কেউ করতে পারেননি।
রোনালদো ছাড়াও পর্তুগালের আক্রমণে থাকছেন এসি মিলানের তরুণ ফরওয়ার্ড আন্দ্রে সিলভা। ক্লাবের হয়ে অতটা ভালো না হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সিলভা দারুণ খেলেন। সম্প্রতি তিউনিশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ২-২ এ ড্র করা ম্যাচে গোলও পেয়েছেন তিনি।
পর্তুগালের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন ম্যানচেস্টার সিটির বার্নান্ডো সিলভা। ২০১৬ সালের ইউরোর ফাইনালের ম্যাচসেরা পেপে সামলাবেন রক্ষণ। আর স্পোর্টিং সিপির রুই প্যাট্রিসিয়োর মতো নির্ভারযোগ্য গোলরক্ষক থাকবেন গোলপোস্টের সামনে। ফলে রাশিয়া বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও স্পেনের কাছ থেকে দারুণ খেলা দেখার অপেক্ষায় আছেন ফুটবলপ্রেমীরা।