স্বাগতিক রাশিয়ার গ্রুপ-‘এ’তে আছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও মোহাম্মদ সালাহর মিসর। কিন্তু শক্তির বিচারে উরুগুয়ের ধারের কাছে নেই অন্যরা। এক সালাহর ভরসায় অন্য তিন দলের মধ্যে মিসরকে এগিয়ে রাখছেন অনেকে। যদিও স্বাগতিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে রাশিয়াও।
আগামী ১৪ জুন শুরু হবে ফুটবলের মহাযজ্ঞ-বিশ্বকাপ। রাশিয়ায় ৩২টি দল আটটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে এবারের আসরে।
এবারের বিশ্বকাপের তুলনামূলক সহজ গ্রুপগুলোর একটি এ-গ্রুপ। স্বাগতিক রাশিয়া, সাবেক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও মোহাম্মদ সালাহর মিসর আছে এ দলে।
গত ২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে যাবে রাশিয়া? না কি ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সবাইকে চমকে দেবে? প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে স্বাগিতকদের বিশ্বকাপ দলে। তবে পরের রাউন্ডে যেতে আকিনোফিভ, গোলোভিনদের নিজেদের সবটুকু উজাড় করে খেলতে হবে।
গ্রুপ-‘এ’ র আন্ডারডগ সৌদি আরব। সবার আগে গ্রুপ থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা তাদেরই। বিশ্বকাপে সৌদির সবচেয়ে বড় সাফল্য ১৯৯৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলা। সৌদির বিশ্বকাপ দলের খেলোয়াড়দের বাইরের কোনো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা নেই।
গত মাসেই ফাহাদ আল-মুয়ালাদ স্প্যানিশ ক্লাব লেভান্তেতে যোগ দিয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞতার দিক থেকে গ্রুপের অন্য তিনটি দলের চেয়ে পিছিয়ে তারা।
যদিও স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে ভালো দল উরুগুয়েকে টক্কর দেয়ার আশা করছে। গ্রুপ-‘এ’ তে ফিফা র্যাং কিংয়ের সেরা দল উরুগুয়ে স্টার পাওয়ারের কল্যাণে সহজেই পরের রাউন্ডে পাড়ি জমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্সেলোনার লুইস সুয়ারেজ ও পিএসজির এডিনসন কাভানির মতো তারকাদের বিশ্বকাপের এমন সহজ গ্রুপ পার করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় মোটেই।
মূলত উরুগুয়ে ছাড়া আর কোনো দলটি ‘এ’-গ্রপ থেকে নক-আউটে যাবে তা নিয়েই গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় ‘এ’-গ্রপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জোরালো সম্ভবনা মিসরের।
তবে মোহাম্মদ সালাহর অনুপস্থিতি বিপদে ফেলতে পারে ফারাওদের। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সালাহর পেনাল্টি গোলেই স্বপ্নের বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছিল মিসর।
সালাহ ছাড়াও আর্সেনালের এলনেনিও মিসরের নামকরা ফুটবলারদের একজন। ফলে উরুগুয়ের পর সালাহর মিসরই হতে পারে নক-পর্বে এ-গ্রুপের আরেক দল।