বিশ্বকাপের 'জি' গ্রুপে আছে বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, তিউনিশিয়া ও পানামা—এ গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে উঠতে ফেভারিট ইউরোপের দুই জায়ান্ট বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ড। দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ এক দল নিয়ে রাশিয়ায় যাচ্ছে বেলজিয়াম।
আর গেলো আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে ভালো পারফর্ম করতে চায় ইংলিশরা। এদিকে, আপসেট ঘটাতে চায় গ্রুপের অন্য দুই দল তিউনিশিয়া ও পানামা।
কয়েকদিন পরই পর্দা উঠবে বিশ্বকাপ ফুটবলের। রাশিয়ার মস্কোয় ১৪ জুন শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই লড়াই। এক মাসের লড়াই শেষে ৩২টি দলের মধ্য থেকে সেরা দলের হাতে উঠবে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি।
শুধু গ্রুপ পর্বের বৈতরনী পার হতেই নয়, বিশ্বকাপ ট্রফির জন্যও এবারের আসরে অন্যতম ফেভারিট বেলজিয়াম। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলটিকে বলা হচ্ছে বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্ম। জার্মানি ও ব্রাজিলের পর ফিফা র্যা ঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে আছে তারা।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দশ ম্যাচের নয়টিতে জয় ও একটি ড্র করেছে রেড ডেভিলরা। প্রতিপক্ষের জালে ৪৩টি গোল করেছে রবার্তো মার্টিনেজের শীষ্যরা।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে রাশিয়ায় যাচ্ছে বেলজিয়াম। ডিফেন্স, মিডফিল্ড ও অ্যাটাক। সব জায়গাতেই আছেন অসাধারণ ফুটবলাররা। বাছাই পর্বে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রোমেলু লুকাকু ১১টি এবং পিএসজির রাইটব্যাক থমাস মিউনিয়ের করেছেন ৫ গোল।
বিশ্বের অন্যতম স্কিলফুল প্লেয়ার মনে করা হয় এডিন হ্যাজার্ডকে। এছাড়াও কেভিন ডি ব্রুইন, ভিনসেন্ট কোম্পানিরা আছেন এই দল। বেলজিয়ামের বেশিরভাগ খেলোয়াড় এসেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ক্লাবগুলো থেকে।
গোলবারের পাহাড়ায় থাকবেন চেলসির থিবো কর্তোইস। তার ব্যাকআপ লিভারপুলের সিমোন মিগনোলেট। ছবি
জি গ্রুপের আরেক ফেভারিট ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর বিশ্বকাপের মঞ্চের তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ১৯৯০ সালে চতুর্থ হওয়া। ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার স্মৃতি মুছে ফেলতে চায় থ্রি লায়নরা।
এবার অবশ্য শক্তিশালী দল নিয়েই রাশিয়ায় এসেছে ইংলিশরা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তারকা ফুটবলারদের নিয়ে স্কোয়াড গড়েছেন গ্যারেথ সাউথগেট। হ্যারিকেইন, জেমি ভার্ডি, রাহিম স্টারলিং, এরিক ডায়ার, ড্যানি ওয়েলব্যাকদের ওপর আস্থা রাখছেন ইংলিশ ফুটবল ভক্তরা।
জি গ্রুপের অন্য দুই দল তিউনিশিয়া ও পানামা। এ দুটি দলকেই মনে করা হচ্ছে আন্ডারডগ। পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে তিউনিশিয়া। এর আগে কখনোই গ্রুপ পর্বের হার্ডলস পার হতে পারেনি আফ্রিকার দেশটি।
এদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছে কনকাকাফ অঞ্চলের দেশ পানামা। যুক্তরাষ্ট্র ও ত্রিনিদাদ টোবাগোকে পেছনে ফেলে রাশিয়ার টিকেট কেটেছে তারা। শক্তিমত্তার বিচারে ইউরোপের দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও আপসেট ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই রাশিয়ায় যাচ্ছে পানামা ও তিউনিশিয়া।