রাশিয়া বিশ্বকাপে মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বাঁচা মরার লড়াই—রাত ১২টায় নাইজেরিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় মাঠে নামবেন মেসিরা।
এ ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য বিকল্প নেই মেসিদের। শুধু জয়ই নয় ঠিকে থাকতে আর্জেন্টিনাকে চেয়ে থাকতে হবে গ্রুপের অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকেও।
একই সময়ে ডি-গ্রুপের সেই ম্যাচে আইসল্যান্ড লড়বে আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
এর আগে রাত ৮টায় একই সময়ে সি-গ্রুপের ভিন্ন ম্যাচে খেলবে অস্ট্রেলিয়া-পেরু ও ডেনমার্ক-ফ্রান্স। ফরাসিরা এরই মধ্যে নক-আউটের টিকেট কেটেছে। আর পেরুর বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। তবে ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়র সুযোগ রয়েছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার।
বিশ্বকাপে টিকে থাকার শেষ সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামছেন মেসিরা। আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র, আর ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারের ফলে আলবিসেলেস্তেরা ১ পয়েন্ট নিয়ে ডি-গ্রুপের তলানিতে।
শেষ ষোলোর আশা বাঁচিয়ে রাখতে সেইন্ট পিটার্সবার্গে নাইজেরিয়ানদের তাই হারাতেই হবে আর্জেন্টিনার। সেই সঙ্গে রোস্তভ অ্যারিনায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আইসল্যান্ডের হারের জন্যও প্রার্থনা করতে হবে দুবারের চ্যাম্পিয়নদের।
রাশিয়া বিশ্বকাপে সমর্থকদের হতাশা ছাড়া কিছু দিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কোচ সাম্পাওলির সঙ্গে দ্বন্দ্বের গুঞ্জনে আর্জেন্টাইনদের শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে ভক্তদের শঙ্কা আরো বেড়েছে। তবে এসব গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মিডফিল্ডার ম্যাশচেরানো। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টাইনরা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে খেলবেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
ডি-গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে নক-আউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গী কারা হবে। আর্জেন্টিনা ছাড়া নাইজেরিয়া ও আইসল্যান্ডেরও পরের রাউন্ডে যাওয়ার শেষ সুযোগ এটি।
আর্জেন্টিনার সমান ১ পয়েন্ট নিয়ে বিপদে আছে আইসল্যান্ড। ৩ পয়েন্টের সুবাদে তিন দলের মধ্যে পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে নাইজেরিয়া।
এদিকে সি-গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলেছে ফ্রান্স। শেষ ম্যাচে ডেনমার্ককে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই ফরাসিদের লক্ষ্য। বিশ্বকাপে এখনো ফেভারিটের মতো খেলতে পারেনি ফ্রান্স। ডেনিশদের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণের চেষ্টা করবে ফরাসিরা।
সি-গ্রুপ থেকে পেরুর বিদায় নিশ্চিত হয়েছে আগেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য মর্যাদার লড়াই।
তবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ আছে ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়ার। ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ডেনিশরা। ফ্রান্সের কাছে হারলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলে অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে নক-আউট পর্বে কোয়ালিফাই করবে তারা। আর পেরুর বিপক্ষে জিতলেও ডেনমার্কের হারের জন্য প্রার্থনা করবে সকারুসরা। সেই সঙ্গে ডেনিশদের চেয়ে গোলের পার্থক্যেও এগিয়ে যেতে চাইবে তারা।