খেলার তখনও বাকি প্রায় আধা ঘন্টারও বেশি— হঠাৎ ক্যামেরায় দেখা গেল মাশ্চেরানোর মুখে রক্তের রেখা— গাল বেয়ে রক্ত ঝড়ছে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মাশ্চেরানো। গাল কেটে গেছে তার, বেশ বড় একটা ক্ষত হয়েছে মুখে তারপরও চলছে খেলা। থামল জয় নিয়ে।
ম্যাচে তখন সমতা— প্রথমার্ধে মেসির দেয়া গোল ততক্ষণে শোধ করে ফেলেছে নাইজেরিয়া। মাঠের বাইরে গিয়ে চিকিৎসাটা সেরে ফেলেতে পারতেন মাশ্চেরানো। তবে সেদিকে ভ্রুক্ষেপই নেই তার। ম্যাচটা যে জিততেই হবে আর্জেন্টিনাকে। সেটা না হলে, বিদায় যে নিশ্চিত ছিল তাই বলে কি মাঠ ছাড়া যায়। এমন অবস্থাতেই খেলেই গেলেন এ ডিফেন্টডার।
গাল কেটে গেছে— রক্ত ঝরছে, ধুর! এভার বানেগা তার পুরোনো সহযোদ্ধার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ম্যাচে, যাও, অন্তত মুখটা মুছে আসো।
মাশ্চেরানোর হেসে উড়িয়েই দিলেন। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, বানেগাকে কী উত্তর দিলেন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী রক্তাক্ত খেলোয়াড়কে মাঠে খেলতে দেয়া হয় না।
তবে তুর্কি রেফারি তার কাছে এসে কথাটা বলার সাহসই হয়তো পাননি। যেভাবে সে লড়ে যাচ্ছিলেন হয়ত থামানো যেত না তাকে।
রক্ত মাখা মুখ নিয়েই ম্যাচের বাকি সময়টুকু পার করেছেন মাশ্চেরানো।
কেবল খেললেনই না, দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়ছেন তিনি। এই জয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে উঠল আর্জেন্টিনা। তবে শরীর থেকে রক্ত ঝড়লেও মাঠ ত্যাগ না করায় দেশপ্রেমের অনন্য নজির তৈরি করলেন মাশ্চেরানো।
আর্জেন্টাইন রক্ষনভাগটা কি দারুণভাবেই না সামলালেন তিনি। অবশ্য তার বাজে ট্যাকলের কারণেই পেনাল্টি থেকে গোল পরিশোধ করে নাইজেরিয়া।
মঙ্গলবার দুর্দান্ত খেলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। অন্য ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়া। এর ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেল মেসির দল।
১৪তম মিনিটে প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে গিয়ে গোল করেন মেসি। বিশ্বকাপে ৬৬২ মিনিট পর গোল পেলের লিটল জিনিয়াস। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে মাচেরানোর ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় নাইজেরিয়া। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ভিক্টর মোসেস।
৮৬ মিনিটে মার্কাডোর বাড়ানো ক্রসে ডান পা ঠেকিয়ে গোল করেন মার্কোস রোহো। এই গোলে মেষ ষোলো নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।