রাশিয়া বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনই মাঠে নামছে রোনালদো-মেসি-কাভানি-সুয়ারেসরা। রাত ৮টায় শক্তিশালী ফ্রান্সের মোকাবেলা করবে আর্জেন্টিনা। আর রাত ১২টায় কাভানি-সুয়ারেজের উরুগুয়ের বিপক্ষে লড়বে রোনালদোর পর্তুগাল।
রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুটা হতাশার হলেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের পর, ক্রোয়েশিয়ার কাছে তিন গোল হজম করে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল গত আসরের ফাইনালিস্টরা।
তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে ভক্তদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ লিওনেল মেসিও দলের প্রয়োজেন সময় জ্বলে উঠেছেন। মেসি-রোহোদের নৈপুণ্যে গ্রুপ পর্বের বাধা পার হয়েছে দুবারের চ্যাম্পিয়নরা।
এবার আর্জেন্টিনার সামনে এবার ফ্রান্স। শেষ ম্যাচের পারফরম্যান্সে ফরাসিদের বিপক্ষে আর্জেন্টাইনদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে, আসরের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড ফরাসিদের। যদিও গ্রুপ পর্বে সেভাবে খেলতে পারেনি ফ্রান্স। একঝাঁক তারকা দলে নিয়েও তিন ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল করেছে দিদিয়ের দেশ্যামের শিষ্যরা। এর মধ্যে ডেনমার্কের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করেছে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের রানার্সআপরা।
তবে এসব কথা কানে নিচ্ছেন না স্যামুয়েল উমতিতিরা। রাশিয়ায় ফরাসিদের সাফল্যই সমালোচকদের জবাব দেবে বলে বিশ্বাস তাদের। আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই তাই ফরাসিদের মূল লক্ষ্য।
যদিও পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে। মুখোমুখি লড়াইয়ে ফরাসিদের বিপক্ষে ১২টি ম্যাচের ছয়টি জিতেছে আর্জেন্টাইনরা। তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আর অন্য তিনটি জিতেছে ফ্রান্স। এর মধ্যে বিশ্বকাপে দুবার দেখায় দুবারই ফরাসিদের হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মিশনে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। কাভানি-সুয়ারেজের মতো তারকা স্ট্রাইকার রয়েছে উরুগুইয়ান স্কোয়াডে। ক্রোয়েশিয়া ও বেলজিয়াম ছাড়া গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয় পাওয়া একমাত্র দল উরুগুয়ে। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন কাভানি-সুয়ারেজ। আর মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ শানানোর কাজ করেন দিয়েগো গোদিন ও হোসে গিমিনেজ। মিশর ও সৌদি আরবের বিপক্ষে মাত্র এক গোলে জিতলেও, শেষ গ্রুপ ম্যাচে রাশিয়ার জালে তিনটি গোল করে স্বরূপে ফিরেছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
এদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দারুণ ফর্মে শেষ আটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে পর্তুগিজরা। স্পেনের বিপক্ষে হ্যাট্রটিকের পর মরক্কোর জালেও একবার বল জড়িয়েছেন রোনালদো। চারটি গোল নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌঁড়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে।
ইরানের বিপক্ষে রিকার্ডো কোয়ারেসমার অসাধারণ গোল প্রমাণ করেছে শুধু রোনালদোর ওপর ভরসা করে নেই পর্তুগাল। উরুগুয়ের দল নিয়ে ভালোমতো গবেষণা করেই মাঠে নামবে পর্তুগিজরা। রাশিয়ায় উরুগুইয়ানদের পাঁচটি গোলই এসেছে সেট-পিস থেকে।
আর পর্তুগালের শেষ চারটি গোলের তিনটিই এসেছে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে। মুখোমুখি লড়াইয়ে উরুগুইয়ানদের কাছে কখনোই হারেনি পর্তুগাল। তিনবারের দেখায় দুটি ম্যাচ ড্র করে, অন্যটি জিতেছে পর্তুগিজরা। আর বিশ্বকাপে এর আগে কখনোই মোকাবেলা হয়নি দুদলের।