অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ। রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা কার হাতে উঠছে তা জানা যাবে আজ রাতে।
গত ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে- না কি নিজেদের প্রথম শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করবে ক্রোয়েশিয়া।
রাশিয়া লুঝনিকি স্টেডিয়ামে রাত ৯টায় মাঠে গড়াবে শিরোপার চূড়ান্ত লড়াই।
রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া- ফুটবল দুনিয়ায় কেউ বোধহয় এমনটা ভাবেননি।
ফ্রান্স শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও শিরোপার লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে সেভাবে গণনায় ধরেননি ফুটবলপ্রেমিরা। কিন্তু চমকের বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে দেয়ার কাজটিই করেছে ক্রোয়াটরা।
অথচ বিশ্বকাপের শুরুতে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া, কোনো দলের পারফরম্যান্সই মনে রাখার মতো ছিল না। জয় দিয়ে সূচনা করলেও পেনাল্টি না পেলে প্রথম ম্যাচেই বিপদে পড়তে পারতো দুই ফাইনালিস্ট। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থাকলেও একটি ম্যাচেও ফেভারিটের মতো খেলতে পারেনি ফ্রান্স।
তবে নক-আউট পর্বে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। একে একে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও বেলজিয়ামের মতো দলগুলোকে বাড়ির পথ দেখায় ফরাসিরা। তারকাসমৃদ্ধ দলটি দেশমের কৌশলে হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য।
এমবাপে, জিরু, গ্রিজমানরা যেভাবে আক্রমণ শানান, একই দক্ষতায় ফরাসিদের রক্ষণদুর্গ পাহারায় রাখেন ভারান, উমতিতিরা। একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে হুগো লরিস আসরের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকের কাতারে চলে এসেছেন।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের এই শক্তিশালী দলটিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ক্রোয়াটরা এতদূর আসবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তা হয়তো ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকরাও কল্পনা করেনি। কিন্তু নিজেদের ওপর আস্থা রেখে অবিশ্বাস্য এই কাজটিই করেছেন মদ্রিচ, রাকিতিচরা। বিশ্বকাপে আগের সাফল্য ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল ক্রোয়াটদের। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে সেই স্বপ্ন পূরণ করে ফেলেছেন মানজুকিচরা।
গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচে জয় পেলেও, নক-আউট পর্বে একটি ম্যাচও ৯০ মিনিটে জিততে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ডেনমার্ক ও রাশিয়ার সঙ্গে টাইব্রেকে, আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এসেছে অতিরিক্ত সময়ে করা গোলে। কিন্তু দেয়াল পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর, প্রতিবারই শেষ হাসি হেসেছে ডালিচের শিষ্যরা। ফ্রান্সের বিপক্ষেও ক্রোয়াটরা একই কাজ করতে পারলে, আবারো নতুন চ্যাম্পিয়নের দেখা পাবে বিশ্বকাপ।
যদিও পরিসংখ্যান ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে নেই। মুখোমুখি লড়াই এগিয়ে রাখছে ফ্রান্সকে। পাঁচবারের সাক্ষাতে কখনোই ফরাসিদের হারাতে পারেনি ক্রোয়াটরা। দুটি ম্যাচ ড্র করলেও, ফ্রান্সের কাছে অন্য তিনটি খেলায় তারা হেরেছে।
এর মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ভোলার কথা নয় দুদলের। সেবার ক্রোয়াটদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। নিজেদের একমাত্র শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল তারা।
এবার আবারো ক্রোয়াটদের কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স? না-কি সোনালি ট্রফি জিতেই ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের রূপকথার অমর গাঁথা রচিত হবে? লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শিরোপার অন্তিম লড়াই শেষে মিলবে এসব প্রশ্নের উত্তর।