দ্বাদশ বিশ্বকাপে আজ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই ক্রিকেটীয় পরাশক্তি ভারত ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটি জিতলে এবারের বিশ্বকাপে শেষ চারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে বিরাট কোহলির দলের। অন্যদিকে শেষ চারের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই ইংলিশদের সামনে। ইয়ন মরগানের দলের জন্য ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বার্মিংহামের ম্যাচকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় দলপতি। যদিও, ইংল্যান্ডকে মোটেও হালকাভাবে নিতে চান না তিনি। বললেন, ‘কয়েকটা দল এই বিশ্বকাপে কয়েকবার ইংল্যান্ডকে ধরাশায়ী করেছে। কিন্তু, এটা আসলে সবার সাথেই হতে পারে। আমার মনে হয়, এই যে সমস্যাটা সেটা ইংল্যান্ডকে নিজেদেরই শুধরে নিতে হবে।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে বড় ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন বিরাট কোহলি। তিনি মনে করেন, এমন ম্যাচে চাপ সামলে খেলতে পারাটাই সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ আসলে এমন একটা টুর্নামেন্ট যেখানে ব্যাসিক ব্যাপারগুলো ঠিক রাখতে পারাটা জরুরি। এমন টুর্নামেন্টে অনেক আবেগ, উত্তেজনা জড়িয়ে থাকে। ফলে চাপও বেশি থাকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটাই এর সবগুলোই থাকবে। ফলে, চাপ সামলে খেলতে পারাটাই সবচেয়ে জরুরি এখানে।’
এই বিশ্বকাপে এখন অবধি কেউই হারাতে পারেনি ভারতকে। ছয়টি ম্যাচ খেলে তারা জিতেছে পাঁচটিতেই। আরেকটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। ফলে, আজ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনালের জায়গাটা নিশ্চিত করে ফেলবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
সেদিক থেকে বেশ খানিকটা পিছিয়েই আছে ইংল্যান্ড দল। সবচেয়ে বড় ফেবারিট হিসেবে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল তারা। কিন্তু, সাত ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হেরে গিয়ে বেশ বিপাকে আছে দলটি। আর আজ হেরে গেলে সেমির পথটা আরো কঠিন হয়ে যাবে ইয়ন মরগ্যানের দলের জন্য।
ইংল্যান্ডের এমন পারফরমেন্সে স্বয়ং বিরাট কোহলিও বিস্ময় প্রকাশ করলেন। বললেন, ‘শুধু আমি না, সবাই বিস্মিত। আমরা ভেবেছিলাম নিজেদের কন্ডিশনে ইংল্যান্ডই আধিপত্য করবে। কিন্তু, এই ব্যাপারে বিশ্বকাপ শুরুর আগে বলা আমার কথাটা আবারও বলতে চাই — বিশ্বকাপে চাপ মাথায় নিয়ে খেলতে পারাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’
পরিসংখ্যানগত দিক থেকেও আজকের ম্যাচটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটাই দুদলের মধ্যকার শততম ওয়ানডে ম্যাচ। আগের ৯৯টি ওয়ানডের মধ্যে ভারতের পাল্লাটাই ভারী। তারা জিতেছে ৫৩টি ম্যাচ। অন্যদিকে ইংলিশদের জয়ের সংখ্যা ৪১টি। দুটি ম্যাচ টাই হয়েছে। আর তিনটি ম্যাচ হয়েছে বাতিল।
ম্যাচে মাঠে নামার আগে নিশ্চয়ই ১৯৯৯ বিশ্বকাপের স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা পেতেই পারে ভারত। সেবার সৌরভ গাঙ্গুলির অলরাউন্ড পারফরমেন্সে কুপোকাত হয়েছিল ইংলিশরা। তাতেই ভেস্তে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। কে জানে, এবারও তাই হবে কি না! এবার সৌরভের ভূমিকাটা কে নেবেন? - রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি বা হার্দিক পান্ডিয়া—ভারতের তো তারকার কোনো অভাব নেই!