বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটের ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাবার পর ১৪ মার্চ প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন তামিম ইকবাল খান। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বাঁ-হাতি এ ওপেনার জানান, লম্বা সময় দলনেতা হিসেবে থাকতে চান এবং সেসময়ে তার ওপর আস্থা রাখতে বলেন।
মাশরাফি বিন মুর্তজার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাংলাদেশের ১৪তম ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তামিম। তিন সংস্করণে বাংলাদেশ দল সবচেয়ে ভালো খেলে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে, আর সেটিতেই বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফির কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। নতুন দায়িত্ব নেয়া তামিমের ভাবনাটা জানতে অপেক্ষায় ছিল সংবাদমাধ্যম। অবশেষে ডিপিএলের অনুশীলনে কথা বললেন ড্যাশিং এ ওপেনার। অধিনায়ক তামিম নিজের পরিকল্পনাসহ ব্যক্তিগত অনেক কিছুই বলেছেন সংবাদমাধ্যমকে……
‘সমালোচনা হবেই। এতদিন সমালোচনা হয়েছে আমার ব্যাটিং নিয়ে। এখন সমালোচনা হলে হবে দুটি দিক নিয়ে। আমি এই কথাটিই বারবার বলছি যে ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। সেটি আলাদা ব্যাপার। কিন্তু অধিনায়কত্বের বেলায় আমাকে সময় দিতে হবে। এমন নয় যে আমি বছরের পর বছর (অধিনায়কত্ব) করে আসছি।’ অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই তার ওপর আস্থা রাখতে বললেন তামিম ইকবাল।
বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে তামিম অবশ্য নতুন কেউ নন। এর আগে মুশফিকুর রহিম এবং ওয়ানডে বিশ^কাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে মাশরাফির অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সহঅধিনায়ক হিসেবেও ছিলেন অনেক দিন। কিন্তু সেসব ছিল অস্থায়ী দায়িত্ব। স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবেই এবারই প্রথম। অধিনায়ক হিসেবে নিজের অনভিজ্ঞতার কথা তাই অকপটেই স্বীকার করলেন তিনি। তার ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে নেতৃত্ব দেয়ার খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই তামিমের। জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বিসিএল, বিপিএল ও ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট মিলিয়েও অধিনায়ক হিসেবে তিনি প্রায় নতুনই। মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে একটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশকে। আর মাশরাফির অনুপস্থিতিতে গত বছর শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব করেছিলেন।
লম্বা সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় অনেক ব্যাপার নখদর্পনে তামিমের। তবে পাকাপাকিভাবে কাজটা করতে গিয়ে সামনে আসতে পারে নতুন চ্যালেঞ্জ। সে পরীক্ষায় উতরাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার কোনো বিকল্প দেখেন না তামিম। তার ভাষায়, ‘এখানে আমাকে সময় দেয়া উচিত। দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সেরা উপায় হলো সামনে থেকে নেতৃত্ব, পারফরমেন্স দিয়ে। দল ভালো করছে কিন্তু আমি করছি না, এমন হলে সেই অধিনায়কের এগিয়ে যাওয়া কঠিন। আমি চেষ্টা করব। চেষ্টাই কেবল করতে পারি। ফল তো অনেক সময় হাতে থাকে না।’
আসন্ন পাকিস্তান সফর দিয়ে শুরু হতে পারে তামিমের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়। করাচিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর থেকে বাড়ছে সফর নিয়ে শঙ্কা। পরিস্থিতির অবনতি হলে বাড়তে পারে তামিমের অপেক্ষা। তার আগে, আপাতত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) প্রাইম ব্যাংকের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। আগেও এই অভিজ্ঞতা আছে তার। জাতীয় দলের স্থায়ী নেতৃত্বে আসার আগে সেখানেই হাত পাকা করার ভালো সুযোগ। টাইগার সমর্থকরাও ডিপিএলে অধিনায়ক তামিম কেমন করেন সেদিকে নজর রাখবে।
২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। সর্বশেষ জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলেও সেটা ঠিক তৃপ্তিদায়ক ছিল না। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশাটা অধরাই থেকে যাচ্ছে। তবে একটা বড় দলের বিপক্ষে জয় পেলেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে বলে মত নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের। তবে নেতৃত্বে ব্যর্থ হলে নিজেই সরে দাঁড়াবেন বলেও জানান তিনি। অতিসম্প্রতি ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করার পর ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন মাশরাফি। ২০১৪ সালে মাশরাফি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ওয়ানডে দলটা আমূল বদলে যায়।
এরপর ২০১৫ সালে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মৌসুম কাটায় টাইগাররা। ওই সময় থেকেই টাইগারদের মাঝে আত্মবিশ^াস বাড়তে থাকে। বড় বড় দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর শুরুও তখন থেকেই।
অধিনায়কের স্বপ্ন প্রসঙ্গে তামিম বলেন, আমি যদি বলি সেরা তিন দলের একটি হতে চাই……এটি অনেক লম্বা একটা প্রক্রিয়া। বলার জন্য এটা বলতে চাই না। এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ছোট ছোট জিনিসগুলোতে উন্নতি করা। ট্রেনিংয়ে আরো ভালো করা, দল হিসেবে খেলা এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার চিন্তা না করে ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করা। এগুলো ঠিক হলে বাকি সব এমনিতেই আসবে।