সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ প্রথম ম্যাচ থেকেই ছিলেন। শেষের দুই ম্যাচে জেমকন খুলনার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তারকায় ঠাসা দল। কিন্তু এই তারকাদের নিয়ে খুলনা টানা দুই ম্যাচ হারল। আর বেক্সিমকো ঢাকা জিতল তাদের টানা চার ম্যাচ। মিরপুরে বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর জেমকন খুলনা শুধু টসটাই জিতল। ম্যাচের বাকি সবকিছুই নিজেদের করে নিল বেক্সিমকো ঢাকা। ম্যাচ জিতল তারা ২০ রানে। সেই সঙ্গে খুলনার বিপক্ষে প্রথম পর্বে হারের বদলাও নেয়া হলো।
মিরপুরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঢাকা শুরু থেকে ব্যাট হাতে যে ঝড় তুললো সেটাই বদলে দিল এই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি। সাকিব আল হাসান ম্যাচের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে যেন চোখে শর্ষেফুল দেখলেন! ঢাকার ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম তাকে উইকেটের চারধারে পিটিয়ে সেই ওভারে চার ছক্কায় তুলে নিলেন ২৬ রান!
ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ঢাকার স্কোরবোর্ডে রান জমা বিনা উইকেটে ৩৩। সেই মোমেন্টামই ঢাকাকে বসালো চালকের আসনে। ম্যাচের বাকি সময় খুলনা শুধু চেয়ে দেখল ঢাকার দাপট।
১৭ বলে ৩৬ রান করে মোহাম্মদ নাঈম ফিরে আসার পর ঢাকার ব্যাটিংকে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেন সাব্বির রহমান ও আল আমিন। ওপেনার সাব্বির এবং টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা আল আমিন খুলনার বোলিং লাইনআপকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার চেষ্টা চালান। আল আমিন ২৫ বলে ৩৬ করে ফিরেন। সাব্বির রহমান টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি পান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এই দুজনে ৭ ওভারে যোগ করেন ৬৪ রান। সাব্বির ৩ ছক্কা ও ৫ বাউন্ডারিতে ৩৮ রানে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন। শেষের দিকে আকবর আলী আরেকদফা খুলনার বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠেন। মাত্র ১৪ বলে ৩১ রান করেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক আকবর আলী।
স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে তার শেষ ওভারে বেচারা বানিয়ে দিলেন আকবর। অপুর শেষ ওভার থেকে আকবর চার ছক্কায় তুলে নিলেন ২৪ রান।
খুলনার বোলারদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে সফল। ৩১ রানে ২ উইকেট পান এই তরুণ। মাশরাফি প্রথম ম্যাচের মতো এবারো একটি উইকেট পেলেন। দারুণ মিল রেখে এবারো নিজের শেষ ওভারের শেষ বলে উইকেট শিকার করলেন মাশরাফি। মাশরাফির শেষ বলে পয়েন্টে বামদিকে ঝাঁপিয়ে মুশফিকের দুর্দান্ত ক্যাচটা ধরেন শামীম হোসেন।
ঢাকা যেভাবে সামনে বাড়ছিল তাতে মনে হচ্ছিল দুশো রানের সঞ্চয় গড়বে তারা। কিন্তু শেষের দিকে খুলনা বোলিংয়ে কিছুটা প্রতিরোধ তুলে। ঢাকার ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ১৭৯ রানে। স্পিনার রবিউল ইসলাম রবি’র বোলিংয়ের সামনে হাঁটু গাড়ে খুলনা। ৩.৩ ওভারে ২৭ রান খরচায় রবি পান ৫ উইকেট।
রান তাড়ায় নেমে খুলনার শুরুটা ভাল হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ে। সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, জাকির হাসান, মাশরাফি-সবাই ব্যর্থ হন। ৯৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে খুলনা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। শেষের দিকে শামীম হোসেন ৯ বলে ২৪ রান করায় খুলনার স্কোর দেড়শ’র ওপর পৌছায়। কিন্তু ম্যাচ জেতার মতো ব্যাটিং যে করতেই পারেনি খুলনা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বেক্সিমকো ঢাকা: ১৭৯/৭ (২০ ওভারে, নাঈম ৩৬, সাব্বির ৫৬, আল আমিন ৩৬, আকবর আলী ৩১, শহিদুল ২/৩১)।
জেমকন খুলনা: ১৫৯/১০ (১৯.৩ ওভারে, জহুরুল ৫৩, মাহমুদউল্লাহ ২৩, শামীম ২৪, রবিউল ইসলাম রবি ৫/২৭)।
ফল: বেক্সিমকো ঢাকা ২০ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: রবিউল ইসলাম রবি।