টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটে-বলে উঠল ভারত। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভারতকে বিশাল সংগ্রহ এনে দিয়েছেন রোহিত-রাহুলরা। বোলিংয়ে ভূমিকা রেখেছেন অশ্বিন-বুমরাহরা। দুই বিভাগের দাপটে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিল বিরাট কোহলির দল।
আবুধাবিতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬৬ রানে হারিয়েছে ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা এখনো কিছুটা বাঁচিয়ে রাখল ভারত। নিজেদের পরের দুই ম্যাচেও জিততে হবে তাদের। শুধু জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের ফলের দিকেও।
আবুধাবিতে এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১০ রান সংগ্রহ করে ভারত। চলমান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। এর আগেরটি ছিল ১৯০ রানের। সেটি ছিল আফগানিস্তানের।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন রোহিত শর্মা। ৪৭ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল আট বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায়। ৪৮ বলে ছয় বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন লোকেশ রাহুল।
জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ১৪৪ রানে থেমে যায় আফগানিস্তান। বড় লক্ষ্য তাড়ায় খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন করিম জানাত। ৩৫ রান করেন মোহাম্মদ নবী।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে যায় ভারত। একটি পাকিস্তানের বিপক্ষে, অন্যটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ফলে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের। এখন নিউজিল্যান্ডের জয়-পরাজয়ের উপর নির্ভর করছে কোহলিদের সেমিফাইনালে যাওয়ার ভাগ্য।
অবশ্য এত চাপকে দূরে ঠেলে আজ ব্যাট হাতে দারুণ করলেন রোহিত-রাহুলরা। ইনিংসের প্রথম বল থেকেই আগ্রসী ছিলেন দুই ওপেনার। রশিদ খান বা মোহাম্মদ নবীদের বোলিংয়ের সামনে কোনো রকম পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়নি তাদের।
এর মধ্যে ৩৭ বলে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি স্পর্শ করেন রোহিত। নাভীন উল হকের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি করেন তিনি। একই স্টাইলে হাফসেঞ্চুরি করেন রাহুলও। গুলবাদিনের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পঞ্চাশ করেন তিনি। ৩৫ বলে পৌঁছে যান হাফসেঞ্চুরির ঘরে। দুজনের হাফসেঞ্চুরির পর আরো হাতখুলে খেলেন। এই জুটিতেই শক্ত পুঁজি পেয়ে যায় ভারত।
তবে ভয়ংকর হওয়া এই জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙেন করিম জানাত। ফিরিয়ে দেন রোহিত শর্মাকে। ১৫তম ওভারে জান্নাতের বল এক্সটা কাভারের দিকে পাঠান রোহিত। সেখানে থাকা নবী উইকেট নিতে ভুল করলেন না। ১৪০ রানে ভাঙে ভারতের ওপেনিং জুটি, রোহিত ফেরেন ৭৪ রানে।
রোহিত ফিরলে শেষ দিতে রাহুলকে সঙ্গ দেন পন্ত। উইকেটে এসেই দুবার জীবন পান পন্ত। কিন্তু তিনে টিকে যান। আউট হয়ে যান রাহুল। রাহুলকে সরাসরি বোল্ড করেন গুলবাদিন নাইব। দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে রানের গতি কিছুটা কমতে থাকে ভারতের। সেটা কাটিয়ে ওঠে পান্ডিয়া ও পন্তের ব্যাটে। শেষ দিকে দুজনেই ব্যাটিং তাণ্ডব চালান। ফলে শেষ পর্যন্ত ২০০ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় ভারত। ইনিংস শেষে পন্ত করেন ১৩ বলে ২৭ রান ও হার্দিক পান্ডিয়া করেন ১৩ বলে ৩৫ রান।