টানা চার ম্যাচ জিতেও সেমির টিকিট নিশ্চিত করতে গ্রুপের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে ছিল অনেক সমীকরণ। সেটি নির্ভর করছিল টস ভাগ্যের ওপর।
সে অনুযায়ী ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মরগ্যান টস জিতে নেন ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত। ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলে ১৯০ রান। সমীকরণ ছিল ইংলিশদের ১৩১ রানের নিচে আঁটকে দেয়া। তাহলেই সেমিতে যেতে পারবে প্রোটিয়ারা।
১৯০ রান টপকানোর লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বেশ ভুগতে হয়েছে ইংলিশ ব্যাটারদের। প্রোটিয়া বোলারদের তোপের মুখে নিজেদের শান্ত রেখে শেষ পর্যন্ত ১৫.২ ওভারে টপকে যায় ১৩১ রানের লক্ষ্যটা।
সেমি-ফাইনাল নিশ্চিতের পর ইংলিশরা ছিল নির্ভার। তবে জয়ের জন্য লড়াই করেছে প্রাণপণ। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত প্রোটিয়ারা জিতলেও পাঁচ ম্যাচে চার ম্যাচ জিতে সমান পয়েন্ট নিয়েও নেট রান রেটে পিছিয়ে পড়ায় বাদ পড়তে হলো গ্রুপ পর্ব থেকে।
প্রোটিয়াদের দেয়া বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশদের ওপেনিং জুটি ভাঙে জেসন রয়ের চোটে। মাত্র ২০ (২১৫) রানের মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। এরপর জশ বাটলার ১৫ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন এনরিক নর্কিয়ার বলে ক্যাচ দিয়ে।
জনি বেইরষ্ট্রোকে ১ রানে ফিরিয়ে দেয়া তাবারিজ শামসির বলে কাটা পড়েন ৩৭ (২৭) রান করা মঈন আলীও। দলের বিপর্যয়ে হাল ধরেন দাউইদ মালান ও লিয়াম লিভিংস্টোন। দুজনের জুটি থেকে রান আসলেও সেটি ছিল ধীর গতিতে।
মালান ৩৩ (২৬) করে ফেরার পর লিভিংস্টোন ফেরেন ২৮ (১৭) রান করে। নিয়মিত উইকেট হারালেও ইংলিশরা ধুঁকতে ধুঁকতে পৌঁছে যায় জয়ের অনেক কাছে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য লাগত মাত্র ১৪ রান।
শেষ ওভার করতে এসে রাবাদা ঘুরিয়ে দেন ম্যাচের মোড়। প্রথম তিন বলেই ক্রিস ওকস, এউইন মরগ্যান আর ক্রিস জর্ডানকে ফিরিয়ে তুলে নেন হ্যাটট্রিক। এখানেই হেরে যায় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রানে থামে টানা চার জয়ে দাপট দেখানো ইংলিশরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রাবাদা। ২টি করে নেন শামসি ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ১ উইকেট নেন এনরিক নরকিয়া।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়ারা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৮৯ রান। ওপেনার রেজা হ্যানরিক্স মঈন আলীর বলে ২ রান করে ফিরলেও কুইন্টন ডি কক আদীল রশিদের বলে ক্যাচ দেয়ার আগে করেন ২৭ বলে ৩৪ রান।
বাকি ওভারগুলো শুধুই রাসি ভ্যানডার দুসেন ও এইডেন মার্করামের। দুসেন ৬০ বলে ৫ চার ও ৬টি ছয়ে খেলেন ৯৪ রানের অনবদ্য ইনিংস। মার্করামও খেলেন ২৫ বলে ৫২ রানের ইনিংস।
গ্রুপ-১ থেকে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। তবে বাদ পড়লেও অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো সমান ৪টি করে ম্যাচ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।