টি-টোয়েন্টির বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশের নারীরা। সেই সাথে বিশ্বমঞ্চে অনেক অর্জনও আছেন তাদের। কিন্তু এখনো ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ অধরাই থেকে গেছে। এবার সেই সুযোগ এসেছে তাদের সামনে।
এ বছর নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর বসতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডে। সেখানে অংশ নেবে বাংলাদেশের টাইগ্রেসরাও। আর সেটাকে অনেক বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলপতি নিগার সুলতানা জ্যোতি। দলের নেতৃত্ব দিতে পারাকে বড় গৌরবের মনে করছেন তিনি। সম্মান বয়ে আনতে চান দেশের জন্য।
নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে ৫ মার্চ থেকে। প্রথম ম্যাচেই বাঘিনিদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপপর্বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের শেষ ম্যাচ ২৭ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই টুর্নামেন্টের আগে আইসিসির এক কলামে জ্যোতি বলেন, ‘আমরা এ সুযোগটি ভালোভাবে কাজে লাগাতে চাই এবং এটিকে গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি।’
বাংলাদেশ কখনোই ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেনি। তাই এবার নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলে জানান সুলতানা। তিনি বলেন, ‘আমরা টিভি এবং ইন্টারনেটে তাদের খেলা দেখে আসছি, অনুসরণ করি। কারণ, আমরা জানতাম, একদিন আমরা তাদের বিপক্ষে খেলব এবং আমাদের বিশ্লেষকরা আমাদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করার জন্য তাদের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।’
বাংলাদেশের মানুষ বরাবরের মতোই ক্রিকেটপাগল। সেটা হোক পুরুষ কিংবা নারীদের বেলায়। প্রতি ক্ষেত্রের সাফল্যেই উচ্ছ্বসিত হন দেশের মানুষ। এ সম্পর্কে সুলতানা বলেন, ‘এখন মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং তারা জানতে চায়, আমরা কোথায় এবং কীভাবে খেলতে যাচ্ছি। গণমাধ্যম এখন আগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং আমাদের বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জনে পুরো জাতিই খুশি হয়েছে। আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সংবর্ধনার ছবি দেখতে পাবেন।’
জ্যেতি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপটি আমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ। কারণ, আমরা দেখাতে পারব, আমাদেরও সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা একটি দল হিসেবে উন্নতি করছি। আমরা এখানে ভালো করতে পারলে আরও দল আমাদের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহী হবে, দেশে আরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসবে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঘরোয়া ম্যাচ বাড়ানোর চেষ্টা করবে।’
তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-১৭ এবং উদীয়মান দল নিয়ে কাজ করছে। তাই সেখানে অনেক ক্রিকেটার আছে, যারা আমাদের এখানে ভালো করতে আগ্রহী। কারণ, তারা জানে, আমরা ভালো করলে তাদের ভবিষ্যৎ আরও ভালো হবে।’