ক্রিকেট বিশ্বে পৌছে গেছে এনামুল হক বিজয়ের নাম। লিষ্ট এ ক্রিকেটে একটি বিশ্বকার্ডের মালিক এখন তিনি। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ১৪ ইনিংসে ১ হাজার ১ শত ৩৮ রান করে লিগের সেরা ব্যাটার বিজয়।
তিন সেঞ্চুরি, আট হাফ সেঞ্চুরি, ব্যাটিং গড় ৮০.১৫, অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। লিস্ট-এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এক টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এটি। প্রিমিয়ার লিগেও সর্বোচ্চ। বিজয়ের রান জোয়ারের ধাক্কা শুধু বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে ক্রিকেট দুনিয়াকে আলোড়িত করেছে।
বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে লিস্ট-এ ক্রিকেটে এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা এখন এই বাংলাদেশি তরুণের দখলে। দ্বিতীয় স্হানে রয়েছেন টম মুডি। সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান সানডে লিগে ১৫ ইনিংসে ৯১৭ রান করেছিলেন। মজার বিষয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মতো লিস্ট-এ ক্রিকেটেও বিজয়ের আগে কেউ এক আসরে ১ হাজারের বেশি রান করেননি।
এমন পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন ডানহাতি এ ব্যাটার। তবে জাতীয় দলে ঢুকতে বিজয়কে পরীক্ষা দিতে হবে ‘এ’ দলে। সেই চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে হবে। জানা গেছে, আগামী ১২ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তার কিছুদিন পর জাতীয় দলও ক্যারিবিয়ানে যাবে। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস গতকাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ‘এ’ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করবে জুনে। স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে একটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে ‘এ’ দল।
উইন্ডিজ সফরে ‘এ’ দলে সুযোগ পাবেন প্রিমিয়ার লিগের পারফরমাররা। বিজয় নিশ্চিতভাবেই থাকছেন ‘এ’ দলে। সুযোগ পেতে পারেন অভিজ্ঞ নাঈম ইসলামও।
গতকাল জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এ সম্পর্কে বলেছেন, ‘বিজয় রান করেছে আমরা দেখেছি। একটা প্রক্রিয়া আছে। আস্তে আস্তে তাকে সুযোগ দেওয়া হবে। সামনে ‘এ’ দলের সিরিজ আছে। ‘এ’ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবে। আশা করি ওর পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা থাকবে।’
দেশের ক্রিকেটে পরিচিত নাম বিজয়ের জন্ম ১৯৯২ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ২০১২ সালের ৩০শে নভেম্বর ২০১২-১৩ মৌসুমের ওয়েস্ট-ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে তার ওডিআই অভিষেক হয়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম শতক করেন।
উইকেট-রক্ষক এবং ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। ২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত তিনি।