মুমিনুল হক স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল বলে বাংলাদেশের অধিনায়ক করা হয়েছে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারের পাশাপাশি ব্যাট হাতে টানা অফফর্মের কারণে নিজ থেকেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন মুমিনুল হক।
প্রায় আড়াই বছর দলকে নেতৃত্ব দিয়ে গত মঙ্গলবার টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়েন মুমিনুল হক। তার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (২ জুন) সাকিবকে অধিনায়ক ও লিটন দাসকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মুমিনুল হক সরে যাওয়ার পর লম্বা মেয়াদে কাউকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ও টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। কিন্তু নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কোনো মেয়াদকাল উল্লেখ করা হয়নি।
বিসিবি প্রধানও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলায় বিসিবির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত বলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তবে কত বছরের জন্য সাকিবকে অধিনায়ক করা হয়েছে-এমন প্রশ্নে তিনি ছোট্ট করে বলেন, ‘পরবর্তী ঘোষণার আগ পর্যন্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেই টেস্টের অধিনায়ক সে, কত দিন থাকবে এটা বলাটা মুশকিল।’
বিসিবিতে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার পর নাজমুল হাসান পাপন জানান, ‘আমার সঙ্গে যা কথা হয়েছে। আমার সঙ্গে না শুধু অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি যতটুক জানতে পেরেছি, সে খেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে সিরিজের পর জিম্বাবুয়ের সাথে খেলা আছে। এখন সেখানে সাকিব অনিশ্চিত। তবে কতদিন সাকিব অধিনায়ক থাকবে সেটা বলা মুশকিল।’
তামিম ইকবালকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব দিয়ে বিসিবি বলেছিল, তাকে দীর্ঘ মেয়াদে দেওয়া হচ্ছে দায়িত্ব। সেই দীর্ঘ মেয়াদ কতদিন তা স্পষ্ট করা হয়নি। যদিও ২০২৩ বিশ্বকাপকে পরিকল্পনা করেই দল গুছিয়ে এগুচ্ছেন তামিম। একাধিক সাক্ষাতকারেও আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন তিনি। টেস্ট অধিনায়কত্বের বেলায় এরকম ধোঁয়াশা কেন? উত্তরে নাজমুলের পালটা প্রশ্ন, ‘অস্পষ্ট না, তামিমের মেয়াদ কতদিনের?’
তাকে ২০২৩ বিশ্বকাপের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে তিনি জানান, ওয়ানডে অধিনায়কের মেয়াদ গণমাধ্যমই তৈরি করেছে, ‘এটা তো আপনারা বানিয়েছেন (তামিমের মেয়াদ), আপনারা এরকম বানিয়ে নেন (সাকিবের মেয়াদও)। মানে আমরা তো বলিনি কখনো। মুমিনুলকেও আমরা কোন টাইমফ্রেমের জন্য বানাইনি।’
এর আগে ২০০৯ সালে প্রথমবার টেস্ট দলের অধিনায়ক হয়ে ১৩ মাস (২০১১ সাল পর্যন্ত) দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আবারও নেতৃত্বে ফেরার পর ২০১৯ সালে ফিক্সিং ইস্যুতে জড়িয়ে ছাড়েন নেতৃত্ব। সব মিলে সাকিবের নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত মোট ১৪টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৩টি, হেরেছে ১১টি।