বেটিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বেটউইনার নিউজের সঙ্গে পণ্যদূতের চুক্তি করেছিলেন সাকিব আল হাসান। আর এই ইস্যুতে তোলপাড় হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটে। পরে চুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) চিঠি দেন সাকিব। চিঠিতে খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিসিবি।
আর তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে সাকিবের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চেয়েছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবি বসের জরুরি বার্তা পেয়ে নির্ধারিত সময়ের দুইদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরেন সাকিব। শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে গণমাধ্যমের চোখ এড়িয়ে গাড়িতে উঠে পড়েন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
দেশে ফিরলে শনিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে সাকিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পাপন। দীর্ঘ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
তিনি জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত সাকিব অধিনায়ক থাকবেন। এশিয়া কাপ, নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং বিশ্বকাপ পর্যন্ত সাকিবের কাঁধে থাকবে দেশের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব।
এ সময় সাংবাদকিদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের নাম আসার পর কিভাবে তাকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেয়া হলো? জবাবে জালাল ইউনুস বলেন, ‘এটা নিয়ে অনেক আলাপ হয়েছে। সাকিব তার ভুল বুঝতে পেরেছে। এটা করা তার ঠিক হয়নি। সাকিব আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাকিবকেই অধিনায়ক করার পরিকল্পনা ছিল। তাকে আমাদের প্রয়োজন। নিজের ভুল স্বীকার করে যখন সে ফিরে এসেছে, তখন এটাকেই আমরা সঠিক ধরে নিয়েছি এবং তাকে দায়িত্ব দিয়েছি।’

বেটিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বেটউইনার নিউজের সঙ্গে পণ্যদূতের চুক্তি করেছিলেন সাকিব আল হাসান
জালাল ইউনুস আরো বলেন, ‘সে ভুল করে একটা অনলাইন নিউজ পোর্টাল মনে করে সে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। এটা অবশ্যই সঠিক হয়নি। তাকে বুঝিয়ে বলার পর সে ওখান থেকে সরে এসেছে।’
জানতে চাওয়া হয়, যারা তাকে চুক্তিতে সাইন করিয়েছিল সেই বেটউইনার নিউজ তো বেটউইনার নামক বেটিং সাইটেরই অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। তাহলে তারা কী সাকিবকে মিসগাইড করেছিল? জালাল ইউনুস বলেন, ‘হ্যাঁ, তার (সাকিব) কাছে মনে হয়েছিল হয়তো মিসগাইড এটা।’
কিন্তু সে তো বোর্ডের অনুমতি না নিয়েই চুক্তিটা করেছিল। এটা তো একটা অপরাধ। জালাল ইউনুস বলেন, ‘সেটা আলাপ-আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে এটা নিয়ে আরো আলাপ হবে। যেটা আমাদের অনুমতি ছাড়া হয়েছে, একটা এনডোর্সমেন্ট নিয়েছে, সে জিনিসটা আগেও আলাপ করেছি এবং আমাদের পরবর্তী বোর্ড মিটিংয়েও এটা আলাপ হবে।’
অফিসিয়ালি চুক্তি বাতিল কতদূর? এমন প্রশ্নে জবাবে জালাল ইউনুস বলেন, ‘হি সেইড, হি অলরেডি টার্নিনেটেড। সে চুক্তি টারমিনেট (বাতিল) করে দিয়েছে।’
এত কিছুর পরও সাকিবকে অধিনায়ক করার পেছনে যুক্তিটা কী? জবাবে জালাল ইউনুস বলেন, ‘যুক্তিটা তো বললাম, হি ইজ আওয়ার বেস প্লেয়ার। আমরা তাকে ওউন করি। সে আমাদের বোর্ডের বা দেশের বাইরের কেউ না। সে যখন বলেছে যে এটা মিসটেক, আমরা ধরে নিয়েছিল যে এটা মিসটেক। তবে তাকে বলা হয়েছে, সে যেন এ ধরনের মিসটেকের পূনরাবৃত্তি না করে। সে আমাদের বলেছে নেক্সট টাইম এ ধরনের মিসটেক আর হবে না। আমাদের বোর্ড প্রেসিডেন্টের সামনে সে আশ্বাস দিয়েছে। আমরা সেটা মেনে নিয়েছি।’