অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক করে এশিয়া কাপের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নেতৃত্ব পাওয়ার পর সোমবার (২২ আগস্ট) সকালে প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি।
মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দলের সবাই অনেক ক্রিকেট খেলেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যারা খেলে, তাদের নিজেদের ধারণা থাকে কীভাবে দলকে জেতানো যায়। সবাই যার যার জায়গা থেকে সেভাবেই চেষ্টা করবে বলে মনে করি। এজন্য আলাদা করে বলে দেওয়ার কিছু নেই। আমরা ফোর-ফাইভের স্টুডেন্ট না যে আমাদের শিখিয়ে দিতে হবে। ওই জায়গায় আমরা আসলে নেই।’
দীর্ঘ ৩১ মিনিটের এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সাকিব। টি-টোয়েন্টিতে এখনও বাংলাদেশ তেমন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের মতে, ‘আমরা এখন ছোট বাচ্চা নই যে সব শিখিয়ে দিতে হবে। আমাদের রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারলে আমরা এশিয়া কাপে ভালো করতে পারব।’
টি-টোয়েন্টিতে ক্রিকেটারদের পারফর্ম করার পেছনে অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারলে আমরা এশিয়া কাপে ভালো করতে পারব। এমন-না যে আমি এসে সব পরিবর্তন করে দিতে পারব। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমরা ভালো টিম। আগেও করে দেখিয়েছি। আমাদের এটা চালিয়ে যেতে হবে।
এদিকে দেশ ছাড়ার আগে কোচদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে এশিয়া কাপ নিয়ে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে সাকিবকে অধিনায়কের চেয়ারে বসানো হয়েছে, তা ঠিকঠাকভাবে করতে পারলে এশিয়া কাপে ভালো ফল আনা সম্ভব বলে মনে করেন সাকিব। তবে সাকিবকে অধিনায়ক করা হয়েছে বলেই সব পরিবর্তন হয়ে যাবে বা ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ, এমনটা ভাবা ঠিক নয় বলে মনে করেন নাম্বার সেভেন্টি ফাইভ। শেষ আসরের এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ।
সাকিব বলেন, আমি সেরা অবস্থায় আছি বলেই আমাকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে আমি এসেই যে সব পরিবর্তন করে দেব-এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। আমি দলের ভালো করার জন্যই কাজ করব। তবে আমি মনে করি, আমাদের এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলা কঠিন। তবে প্রথম ম্যাচ থেকেই যদি আমরা ভালো করি, তাহলে এশিয়া কাপেও ভালো করা সম্ভব।
বাংলাদেশের ক্যাম্পে রোববার (২১ আগস্ট) যোগ দিয়েছেন টি-টোয়েন্টির নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর শ্রীধরন শ্রীরাম। সাকিব সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজই নতুন কোচের সঙ্গে এশিয়া কাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। আরব আমিরাতে যাওয়ার পর কন্ডিশনিং ও প্রস্তুতির পরবর্তী পর্যায় শুরু করবেন সাকিব-মুশফিকরা।
শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে টেস্ট ক্রিকেটের দায়িত্বও পেয়েছেন। কঠিন দুই ফরম্যাটের দায়িত্ব নেওয়ার কারণ হিসেবে সাকিব বলেছেন, এমন হতে পারে পাপন ভাই (নাজমুল হাসান) আমাকে চাপে রাখে। এটা থাকলে (অধিনায়কত্ব)একটা চাপে রাখার সুযোগ থাকে। আমার কাছে মনে হয় যেহেতু চ্যালেঞ্জিং জায়গাগুলো (অধিনায়কত্ব) এবং সেই জায়গাগুলোতে আমি বোর্ডের কাছে সেরা অপশন। হয়তো এ কারণে আমাকে নির্বাচন করা হয়েছে।
নেতৃত নেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা মোটিভেটেড ছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিবের উত্তর, ‘কঠিন প্রশ্ন আমি জানি না কতটুকু, তবে এখন অনেক অনুপ্রাণিত। চেষ্টা করবো আমার যে অভিজ্ঞতা আছে, সেটা দিয়ে যতটুকু দলের ভালো করানোর চেষ্টা করা যায়।’
এবারের এশিয়া কাপ হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ দুই আসরে ফাইনাল খেলেছিল। এবার বাংলাদেশের খুব ভালো সময় যাচ্ছে না। শেষ ১০ টি-টোয়েন্টির আটটিতেই দল হেরেছে। সাকিবের হাত ধরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না সেটাই দেখার।