একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার কমান্ডার মোবারক হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনের ৫টি অভিযোগের মধ্যে দুটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর বাকি ৩ টি অভিযোগে তাকে খালাস দেয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও খালাস পাওয়া ৩ অভিযোগের বিষয়ে আপিল করা হবে কিনা সে বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এদিকে এ রায় মেনে নিতে পারছেন না আসামি পক্ষ।
সকাল ১০টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয় একাত্তরে ব্রাহ্মবাড়িয়ার রাজাকার কমামান্ডার মোবারক হোসেনকে। পরে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তার বিরুদ্ধে আনা ৫ অভিযোগের সার সংক্ষেপ পড়া শুরু করেন বিচারক আনোয়ারুল হক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগরা ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত এ নেতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় আখাউড়া থানার টানামান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামের ৩৩ জনকে হত্যা, আনন্দময়ী কালীবাড়ি রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন, ছাতিয়ান গ্রামের আব্দুল খালেককে হত্যা, শ্যামপুর গ্রামে দুজনকে অপহরণ করে একজনকে হত্যা এবং খরমপুর গ্রামের একজন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল বিচারকাজ সম্পন্ন করে।
সংক্ষিপ্ত রায় পড়ার পর মোবারকের মামলার রায় দেন ট্রইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান এম ইনায়েতুর রহিম। মোবারকের বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রামনাদি সাপেক্ষে ২টি অভিযোগে তাকে সাজা দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরমধ্যে হত্যা ও গণহত্যার দায়ে ১ নম্বর অভিযোগে ফাঁসি ও ৩ তম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। আর বাকি ৩টিতে খালাশ দেয়া হয়।
মোবারোকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নয় দাবি করে এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানান তার আইনজীবীরা।
এ রায়ের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৩ তম রায় ঘোষণা করলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।