একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জের কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল-২। মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
কায়সারের বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৩, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।
২ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৭ নম্বর অভিযোগে সাত বছর এবং ১১ নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছর কারাদণ্ড পেয়েছেন তিনি। খালাস পেয়েছেন ৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ থেকে।
৪৮৪ পৃষ্ঠার রায়ের সারাংশ পড়ছেন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। বিচারক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া।
মোহাম্মদ কায়সার ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী। গত ২ ফেব্রুয়ারি ১৬টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ৭৩ বছর বয়সী কায়সারের বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরু হয়। অভিযোগ গঠনের আদেশ অনুসারে মুক্তিযুদ্ধকালে কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ একটি। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের অভিযোগ ১৩টি এবং ধর্ষণের অভিযোগ দুটি। ৯ মার্চ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন আসামিদের মধ্যে কায়সার দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাকে জামিনে রেখে শুনানি চলে। যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এটি হবে ট্রাইব্যুনালের চতুর্দশ রায়।
গত বছর ১৫ মে কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পরে ২১ মে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কায়সারকে গ্রেপ্তার করার পর ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে শারীরিক কারণে জামিনের আবেদন জানালে ৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল তাকে জামিন দেয়। এরপর থেকে মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত জামিনে ছিলেন তিনি।