মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার তিনটি অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
এ বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলা ছাড়াও চট্টগ্রামে ১০ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলায় নিজামীকে ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেয় চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল১।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিল মতিউর রহমান নিজামী। হত্যা, ধর্ষণ, উস্কানি, হত্যার পরিকল্পনা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের মতো ঘৃণ্য অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার দায়ে ২০১২ সালের ২৮ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার শুরু হয়। ২০১০ সালের ২ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় নিজামীকে।
গত ২০১৩ সালের ২৮ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এক ১৬টি সুনির্দিষ্ট অপরাধে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। এ ১৬টি অভিযোগ আমলে নিয়েই নিজামীর বিচার হয়।
এগুলোর মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চারটিতে ফাঁসি ও চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে অপহরণ ও হত্যা; সাঁথিয়ায় পাকিস্তানি সেনাদেরকে ৪০০ মানুষ হত্যায় প্ররোচণা, ৪০ নারীকে ধর্ষণ ও দেশত্যাগে বাধ্য করা; করমজা, ধুলাউড়ি ও বৃশালিখা গ্রামে অর্ধ শতাধিক মানুষকে হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ ও সম্পত্তি ধ্বংস, ঢাকার নাখালপাড়ায় পুরনো এমপি হোস্টেলের পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা রুমী, বদী ও সুরকার আলতাফ মাহমুদকে নির্যাতন করে হত্যায় সম্পৃক্ততা। আর সর্বোপরি গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যায় নিজামীর নেতৃত্ব।
ট্রাইব্যুনালে নিজামির ফাঁসির দণ্ড আপিল বিভাগেও বহাল থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অভিযোগগুলোর কোনোটির সঙ্গে নিজামীর সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের।