দেশকে অস্থিতিশীল ও সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রাখতে ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা।
সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ –ডিএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
কমিশনার বলেন, এ চার জনকে হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো একটি মহল ভাড়া করেছিল পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে তারা এ ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করেছে তারা।
কমিশনার আরো বলেন, হত্যার আগেই তাদের অর্ধেক টাকা দেয়া হয়েছিল—ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
তবে এ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি— তাভেলা টাগের্ট কিলিংয়ে শিকার নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন বিদেশি হত্যাই মূলপরিকল্পনা ছিল।
প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে আইএস নাটক সাজানো হয়েছিল – ডিএমপি কমিশনার সংবাদ সম্মেরনে বলেন, 'সিজার তাভেলা হত্যায় আইএস জড়িত-এর সত্যতা পাওয়া যায়নি— হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য আইএস বিষয়টি নিয়ে আনা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, একটি চিহ্নিত মহল বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তাভেলাকে হত্যা করে। হত্যার নির্দেশদাতা কথিত বড়ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলে এর পিছনে কারা রয়েছে তা বের করা যাবে।
এ ঘটনায় বিএনপি-জামাত জোটের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।
হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুলিশ উদ্ধার করতে পারলেও এখনো খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়নি কথিত সেই ব্যক্তিকে? সাংবাদিকদের এসকল প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেন কমিশনার।
ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যার ঘটনায় ৩ হত্যাকারীসহ চার জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।
তারা হলো: রাসেল ওরফে ভাগনে রাসেল, রুবেল ওরফে শুটার রুবেল, রাসেল ওরফে চাকতি রাসেল ও শরীফ।
গুলশান ৯০ নম্বর সড়কে গভর্নর হাউসের সীমানাপ্রাচীরের বাইরের ফুটপাতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুবৃর্ত্তদের হাতে খুন হন ইতালীয় নাগরিক সিজার তাভেলা। তিনি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিও কো-অপারেশন প্রুফসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন।