পাবনার হেমায়েতপুরে শ্রী অনুকূল চন্দ্র ঠাকুর সেবাশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জনকে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
শনিবার মামলাটি দায়ের করেন সেবাশ্রমের আরেক সেবক। এদিকে, সেবক হত্যার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সাইট ইন্টিলিজেন্স।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ভোরে মন্দিরের কাজ শেষ করে নিত্যরঞ্জন রাস্তায় হাঁটতে বের হন। তখন দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে ঘটনাস্থলেই তার মুত্যু হয়।
নিহত নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে (৬০) সৎসঙ্গ আশ্রম নামে পরিচিত ওই সেবাশ্রমে কাজ করে আসছিলেন দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে। অন্য দিনের মত শুক্রবারও প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে আক্রান্ত হন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে পুলিশ জানিয়েছে, নিত্যরঞ্জনকে পেছন থেকে ঘাড়ে কোপ দেয়া হয়। ঘাড়ে ও মাথায় এমনভাবে কোপানো হয়েছে যে দেখে মনে হয় খুনিরা তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে চেয়েছিল।
এদিকে, পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে— একই গোষ্ঠী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
গত ৭ জুন ঝিনাইদহে হিন্দু পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী, ৫ জুন নাটোরে খ্রিস্টান দোকানি সুনীল গোমেজ এবং একই দিনে চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে খুনের ওই ধরনে।
সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক যুগল কিশোর ঘোষ জানান, নিত্যরঞ্জনের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার আরুয়াপাড়ার কংশুর গ্রামে। তার বাবার নাম রসিকলাল পাণ্ডে। গত ৩৫ বছর ধরে এ আশ্রমে আশ্রিত থেকে ধর্ম সেবা দিয়ে আসছিলেন নিত্যরঞ্জন। ডায়াবেটিস ছিল বলে প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হতেন। শুক্রবারও হাঁটতে বেরিয়ে খুন হন তিনি।