কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহের কাছে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হামলাকারীর নাম আবির রেহমান— সে রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের ওপর হামলায় অংশ নেয় আট জঙ্গি। আহত হয়ে আটক হওয়া এক হামলাকারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় পুলিশের ওপর হামলায় অংশ নেয় আট জঙ্গি। আহত হয়ে আটক হওয়া এক হামলাকারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় জঙ্গি দমনে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
পরে তিনি নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ভৌমিকের বাসায় যান।
প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, অমানবিক ও ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা আগামীতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে জঙ্গিবাদকে মোকাবিলা করব। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি। কোনো রকম জঙ্গি তৎপরতা আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এ ব্যাপারে সরকার দৃঢ় অবস্থানে আছে এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।’
পুলিশ আরো জানিয়েছে, নিহত একজনের পায়জামার নীচে জিন্সের প্যান্টে চাপাতি রাখার জন্য বিশেষভাবে বানানো চেম্বার ছিল।
এদিকে, সিসি ক্যামেরার এক ফুটেজে দেখা গেছে পুলিশকে আক্রমণের জন্য দুই জঙ্গি চাপাতি, ককটেল ও পিস্তল হাতে দৌঁড়ে যাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয় আট জন। এসময়, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের মধ্যে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পিস্তলসহ র্যা বের হাতে ধরা পড়ে এক যুবক। তার নাম শফিউল ইসলাম ওরফে আবু মোকাদ্দেল। তার বয়স ১৯ বছর।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ওস্তাদ তাদেরকে এখানে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়েছিল তাই ২৭ রোজার দিন সে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে কিশোরগঞ্জে আসে। এ হামলায় আরো যারা অংশ নিয়েছে, এখানে এসে দেখলেও আগে থেকেই তাদেরকে চিনতো সে।
এদিকে, শোলাকিয়ায় হামলাস্থলে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির একপর্যায়ে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। গোলাগুলি থামলে অল্পবয়সী একটি ছেলের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ বলছে, সে সন্দেহভাজন হামলাকারী— পুলিশ আরো জানায়, তার পোশাকের নিচে চাপা জিনসের একটি প্যান্ট ছিল। জিনসের প্যান্টে কোমর থেকে হাঁটুর ওপর পর্যন্ত বিশেষ চেম্বার ছিল। ওই চেম্বারে চাপাতি জাতীয় লম্বা অস্ত্র রাখা যায়।
পুলিশের ধারনা, হামলার পর পোশাক বদলে সাধারণ জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীদের।
এদিকে, ঘটনাস্থলের কাছে একটি বাড়িতে বসানো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়ে অস্ত্র হাতে দৌঁড়াচ্ছে দুই জঙ্গি। একজনের হাতে চাপাতি, অন্য জনের হাতে ককটেল। দুইজনেরই ডান হাতে ফায়ারিং পজিশনে পিস্তল ধরা। কিন্তু, এখনো তাদের পাওয়া যায়নি। নাম পরিচয়ও জানা যায়নি।
অন্যান্য বছরের মত এবছরও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতে নামাজ পড়াতে সেখানে গিয়েছিলেন ইমাম মওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ।
তিনি ১০ বছর ধরে দেশের সবচেয়ে বড় এই ঈদের জামাতে ইমামতি করছেন। শোলাকিয়ায় এ হামলার টার্গেট সম্ভবত তিনিই ছিলেন বলে দাবি তার। দীর্ঘদিন থেকেই তাকে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছিল বলেও জানান মওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছরের মত এবারেও ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলেন। হেলিকপ্টার থেকে কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে নামার সময় তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পান, যেটাকে তিনি প্রথমে তেমন আমলে নেননি।
পরে, তাকে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেলার সার্কিট হাউজে চলে যায়। এরপর নিরাপত্তা কর্মীরা শোলাকিয়ার জামাতে তাকে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।