জঙ্গিদের 'আশ্রয় দেয়ার' অভিযোগে রাজধানীর মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে নুরুল ইসলাম নামে আরো এক বাড়ির মালিককে আটক করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি ইউসুফ হোসেন বলেন, শনিবার রাতে তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশান হামলায় জড়িত কয়েকজন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৪৪১/৮ নম্বর বাড়িতে থাকতো বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে— তদন্তের ভিত্তিতেই ওই বাড়ির মালিক নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
এডিসি ইউসুফ জানান, গুলশানে হামলার পর গণমাধ্যমে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশের পরও তাদের বিষয়ে পুলিশকে কিছু জানাননি বাড়ির মালিক নুরুল ইসলাম— এ কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া ওই বাড়ি থেকে গ্রেনেড তৈরির কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গুলশানের রেস্তোরাঁয় হামলায় জড়িত জঙ্গিদের বাড়ি ভাড়া দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য না রাখার অভিযোগে এর আগে শনিবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্য দু'জন হলেন- গিয়াসের ভাগ্নে আলম চৌধুরী ও ভবনটির ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান তুহিন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাড্ডা, লালমাটিয়া ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
পুলিশ বলছে, গুলশানের ঘটনায় চূড়ান্ত অপারেশন পরিকল্পনা, অস্ত্র ও বোমা রাখার নিরাপদ আস্তানা ছিল উপ-উপাচার্যের ওই ফ্ল্যাট।
উল্লেখ, ১ জুলাই শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্যারাকমান্ডোর সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল। এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরো ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন।