নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের নেতা মুফতি হান্নানের নির্দেশনায় বার রক্তাক্ত হয়েছে মাজার, রাজপথ থেকে শুরু করে জনসভা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন। হুজি জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ, আহত হয়েছেন ৬ শতাধিক। আর কমপক্ষে ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনার পরিকল্পনা করেন মুফতি হান্নান।
এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা, রমনা বটমূলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বোমা হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ারকে হত্যা করা হয়েছিল তার ইন্ধনেই
গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া মুফতি হান্নান সেখানেই মাদ্রাসায় পড়াশুনা শুরু করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের করাচিতে নিউ টাউন মাদ্রাসায় ভর্তি হন । সেখানেই জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। ১৯৮৮ সালে মুফতি হান্নান পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে রনাঙ্গণে যুদ্ধে অংশ নেন।
১৯৯৪ সালে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশে যোগ দেন। দ্রুতই তার সাংগঠনিক দক্ষতা আর দূধর্ষতার কারণে হয়ে ওঠেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা।
১৯৯৯ সালে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মধ্যে দিয়ে গোপন জঙ্গি সংগঠন হুজি-বির নাশকতার শুরু। মুফতি হান্নানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এই হামলা করা হয় বলে তার জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।
ওই হামলায় ১০ জন নিহত ও দেড়শজন আহত হন। এরপর ওই একই বছর খুলনা শহরের আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলা হয়। এতে মারা যায় আট জন।
২০০১ সালে ১৪ এপ্রিল বাংলা বর্ষবরণে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান চলাকালে মুফতি হান্নানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বোমা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ১০ জন নিহত হন।
২০০৬ সালে ১৯ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালতে মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে করা চারটি হামলার কথা। তার জবানবন্দি অনুযায়ী ২০০০ সালে হুজির কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ওই বছর কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশস্থল ও হেলিপ্যাডের কাছে দুটি শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখা হয়, যা আগেই পুলিশ উদ্ধার করে। এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে ২০০১ সালে ৩০ মে খুলনার রূপসা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে যাওয়া ১৫ হুজি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর আসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে আর্জেস গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ নিহত হন ২২ নেতাকর্মী। এ সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বর্ণনা পাওয়া যায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দী থেকে।
শুধু এ হামলাগুলোতেই থেমে থাকেনি এ জঙ্গি নেতার কর্মকাণ্ড। তারই নির্দেশে ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজারে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ ৩ জন নিহত হন।
২০০৫ সালে হবিগঞ্জে এক জনসভায় বোমা হামলায় মারা যান প্রবীণ রাজনীতিবীদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন।
এইসব বোমা হামলার ঘটনায় মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা করা করা হয়েছে। যার মধ্যে দুটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে।