বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার দিয়েই রিজার্ভ জালিয়াতি করে টাকা সরিয়ে নেয়া হয়েছে— উল্লেখ করে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য তানভির হাসান জোহা বলেন, সার্ভার হ্যাক করে না ভিতরের কারো যোগসাজসে সার্ভারে ঢুকে রিজার্ভের টাকা সরানো হয়েছে— যা ২/১ দিনের মধ্যেই খোলাসা হয়ে যাবে।
শুক্রবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, এরইমধ্যে যেসব আইপি থেকে ফেডারেল রিজার্ভে পেমেন্ট নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে—সেগুলোও সনাক্ত করেছে তদন্ত কমিটি।
তানভির হাসান জোহা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনর বার্তা আদান-প্রদানকারী ব্যবস্থা-সুইফটের সংকেতলিপি ব্যবহার করেই যে যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিল—এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমেই হ্যাকার ঢুকেছে—যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে নয়। তবে যেখান থেকেই হ্যাকড হোক না কেন! প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানা গেছে, ভাইরাস ইনফেকশন অথবা অভ্যন্তরীণভাবে পিন কোড না দিলে এ অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় বাংলাদেশের কেউ না কেউ জড়িত থাকতে পারে— উল্লেখ করে তদন্ত কমিটির এ সদস্য বলেন, যদিও বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে—তদন্তের আগে কারা জড়িত থাকতে পারে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা উচিত নয়।
সুইফটের সংকেত লিপি জালিয়াতরা কিভাবে পেলো?—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তানভির হাসান জোহা আরো বলেন, এখন পর্যন্ত তদন্তের যে অগ্রগতি তাতে খুব শিগগিরই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।
এদিকে, জালিয়াত সন্দেহে ফিলিপিনো কর্তৃপক্ষ যে ৬ জনকে সনাক্তকারীর মধ্যে উইলিয়াম গো নামের একজন সন্দেহভাজন এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
তবে এরইমধ্যে রিজল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট, মাকাটি শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানিয়েছে গোয়ের আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেকে টার্গেট করে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরণের তথ্য সংগ্রহ করে জালিয়াতরা।
এ লক্ষ্যে ফিলিপাইনের রিজল ব্যাংকে ২০১৫ সালে পাঁচটি অ্যাকাউন্টও খোলা হয়। পরে সুযোগ বুঝে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জালিয়াত চক্রটি হাতিয়ে নেয় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার।