বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮০০ কোটি ডলার চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন আগামী ২০ দিনের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপিন্সের একটি আদালত। আগামী ২ মে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হয়েছে
বৃহস্পতিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম ইনকোয়েরার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফিলিপাইনের মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ কাউন্সিল (এএমএলসি) কিম অং, ইস্টার্ন হাওয়াই ও গোর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করার পর এ আদেশ দেয় আদালত।
ফিলিপিন্সের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কাউন্সিল-এএমএলসি কিম অং, ইস্টার্ন হাওয়াই ও গোর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করার পর সোমবার সম্পদ জব্দের এ আদেশ দেয় আদালত।
জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ৩টি গ্রুপ জড়িত, তৃতীয় গ্রুপটি হলো ফিলিপিনোদের, ফিলিপাইন সিনেট কমিটির সদস্য ওসমেনা। এঘটনায় রিজার্ল ব্যাংকের কোষাধ্যক্ষ পদত্যাগ করেছেন।
আদালতের আদেশে ফিলিপিন্স ন্যাশনাল ব্যাংকে (পিএনবি) অংয়ের ৪. ৪৬ মিলিয়ন পেসোর অ্যাকাউন্ট, একই ব্যাংকে ক্যাসিনো অপারেটর ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেডের ৫ .৭৪ মিলিয়ন পেসোর অ্যাকাউন্ট এবং রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি) ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর নামে থাকা ১৯ হাজার ৯৮৩ পেসোর অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ফিলিপিন্সের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং ওই অর্থের যে অংশ এরইমধ্যে দেশটির মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কাউন্সিলকে ফেরত দিয়েছেন তাও সম্পদ জব্দের এ আদেশের আওতায় রয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে এসেছে।
হাতিয়ে নেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলারের একটা অংশ হাতে আসার কথা স্বীকার করেছেন কিম অং—তবে চুরি করে ওই অর্থ নেয়ার বিষয়টি তার জানা ছিল না বলে দাবি করেন।
এদিকে, গতকাল রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তুলে দেন কমিটির প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় মার্চের ১৫ তারিখে ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করে সরকার।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এ তদন্ত কমিটিকে এক মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন এবং আড়াই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।