জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি পরিবারেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে— সন্তানদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে প্রত্যেক অভিভাবককেই।
সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদেরকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে।
রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে দেশের সকল ঊচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কোনো ঊচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইনবহির্ভূত কাজে জড়িত থাকলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস পড়ানো বাধ্যতামূলক করা হবে।
এ সময় জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবানও জানান তিনি।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার একমাস পূর্ণ হলো আজ- সোমবার। ঘৃণ্য এসব হামলার প্রতিবাদে এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আহ্বানে সকাল ১১টা থেকেই একযোগে মানববন্ধনে শামিল হয় দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি ঊচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এসব মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন তারা।
তবে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, সন্তানদের বিপথে যাওয়া প্রতিরোধে অভিভাবকদেরকেই সবচেয়ে বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্ষমতা আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন এর চেয়ারম্যান।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পালিত হয় এ মানবন্ধন কর্মসূচি।
এদিকে, সম্প্রতি দেশে সংগঠিত জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ ও এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচি থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রুখে দাড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সন্ত্রাস নয় শান্তি চাই, শঙ্কামুক্ত জীবন চাই, এই শ্লোগানে সারাদেশের মতো গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসাসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ বিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
জঙ্গিবাদের উত্থান, জঙ্গি তৎপরতার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতে অংশ নেন।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জঙ্গি বিরোধী মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে পরিবার থেকে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে রংপুর, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, পাবনা, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।