পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে গুণী শিল্পী এসএম সুলতানের গড়া সংগ্রহশালার দুর্লভ সব চিত্রকর্ম। সংগ্রহশালায় নিয়োগ দেয়া হয় ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে। তবে নিয়মিত বেতনভাতা না পেয়ে তাদের অনেকেই কাজ ছেড়ে যাচ্ছেন। ফলে অনেকটা অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে বরেণ্য এ শিল্পীর আঁকা ছবিগুলো।
এস এম সুলতান! যার রং তুলি আর ক্যানভাসের উপজীব্য মাটি আর মানুষ। এঁকেছেন জল-জেলে-নৌকা, পাট কাটা, ধান ভানা, চর দখল ও মাছ ধরার মতো গ্রাম বাংলার অসংখ্য ছবি। তিনিই একমাত্র বাঙালি চিত্রকর যার আঁকা ছবি পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালির ছবির সঙ্গে লন্ডনে প্রদর্শিত হয়েছে।
হতদরিদ্র পরিবারে ১৯২৪ সালের এ দিনে জন্ম এস এম সুলতানের। ব্যক্তিজীবনে ছিলেন ভবঘুরে আনমোনা প্রকৃতির। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বেশি এগোতে পারেননি। তবে, আঁকাআঁকির ঝোঁক সেই ছোট বেলাতেই। জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন ছবি আঁকাতেই। পেয়েছেন একুশে ও স্বাধীনতা পদক। ভূষিত হয়েছেন দেশি-বিদেশি সম্মাননায়।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তার মৃত্যুর পর নড়াইলবাসীর দাবিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২০০৩ সালে নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় সুলতানের বসতবাড়ির কাছে ২ একর ৫৭ শতক জমিতে শিশুস্বর্গের আদলে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা নির্মাণ করে। এসব স্মৃতি রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য সংগ্রহশালায় ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিয়োগ দেয়া হয়। তবে নিয়মিত বেতনভাতা না পেয়ে কাজ ছেড়ে যাচ্ছেন অনেকেই। ফলে অনেকটা অবহেলা আর অযত্নে থাকছে তার আঁকা ছবিগুলো।