বন্যার সময় পানীয় জলের সংকট দূর করতে সহজেই পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ। এ পদ্ধতিতে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ নিজেরাই সূর্য কিরণের সাহায্যে বন্যার পানিকে পানের উপযোগী করে তুলতে পারবেন।
যেভাবে পানি বিশুদ্ধ করবেন:
চার ইঞ্চি পুরু খড়ের বিছানা তৈরি করে তার ওপর কালো রং করা ডালা রাখতে হবে। খড়ের নিচে তাপ বেরিয়ে যেতে বাধা দিবে। একটি পরিষ্কার স্বচ্ছ পলিথিন সিট ডালার ওপর বিছিয়ে দিন। তার ওপর ছেঁকে নেয়া পানি ঢেলে দিন। পানির গভীরতা ২ সে.মি. বা আঙ্গুলের এক কড় কম হতে হবে।
আর একটি স্বচ্ছ পলিথিন শিট পানির ওপর বিছিয়ে দিন। বাতাসের বুদ বুদ থাকলে সরিয়ে দিন। কয়েকটি খড়ের নাড়া ছড়িয়ে দিয়ে তৃতীয় একটি স্বচ্ছ পলিথিন শিট বিছিয়ে দিয়ে মাঝে একটি বাতাসের স্তর তৈরি করুন। যা উপরের দাকে তাপ বের হতে দেবে না কিন্তু সূর্যের আলো ঢুকতে দেবে। কয়েকটি খড়ের নাড়া ছড়িয়ে দিয়ে চর্তুথ একটি স্বচ্ছ পলিথিন শিট সবার ওপর বিছিয়ে দিয়ে আর এ কটি তাপ রোধক বাতাসের স্তর তৈরি করুন। চারিদিকে ওজন চাপা দিয়ে শিটগুলো টান টান করে রাখুন। রোদে এভাবে ২ ঘণ্টায় পানি জীবাণুমুক্ত হবে। উপরেরর তিনটি পলিথিন শিট সরিয়ে নিন। নিচেরটি গুটিয়ে নিয়ে জীবাণুমুক্ত পানি পরিষ্কার পাত্রে ঢেলে নিন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পদ্ধতি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন এ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সিদ্দিক ই রব্বানী।
প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে বন্যা কবলিত হয় দেশের বড় একটি অংশ। বন্যা কবলিত এসব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দেয় পানীয় জলের। শুধু বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হয় এসব অঞ্চলের মানুষেরা।
পানীয় জলের এ সংকট দূর করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সিদ্দিক ই রব্বানী ও তার দল উদ্ভাবন করেছে সূর্যের আলো দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করার একটি সহজ পদ্ধতি।
পরে তিনি হাতে-কলমে এ পদ্ধতির ব্যবহার সবাইকে দেখিয়ে দেন।
জ্বালানি সমস্যার কারণে পানি ফুটিয়ে পান করা সম্ভব না হলে খুব কম খরচে তৈরি এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানি সহজেই জীবানুমুক্ত করা সম্ভব বলে জানান ড. সিদ্দিক।
ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষেরা।