প্রয়াত অধ্যাপক পিয়াস করিমের মরদেহ শহীদ মিনারে নিয়ে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণার প্রতিবাদে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন। এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী কোনো চক্রকেই শহীদ মিনারে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড নামের একটি সংগঠন বৃহস্পতি ও শুক্রবার শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান করার জন্য আগেই অনুমতি চেয়েছিল। কর্তৃপক্ষ তাদেরই অনুমতি দিয়েছে।
পিয়াস করিমের পরিবারের করা আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, আমাদের অনুমোদন না নিয়েই তারা লাশ শহীদ মিনারে আনার কথা মিডিয়ায় জানিয়েছেন। এখানে অনুমোদন দেয়ারও কিছু নেই, দায়-দ্বায়িত্ব নেয়ার কিছু নেই।
পিয়াসের ভাই লোটাস করিম সাংবাদিকদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে নিরাপত্তা না পেলে তারা শহীদ মিনারে কফিন নেয়ার পরিকল্পনা বাদ দেয়া হবে।
বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পিয়াস করিমের মরদেহ শহীদ মিনারে আনার অনুমতি দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।
সোমবার ভোরে প্রয়াত অধ্যাপক পিয়াস করিম মারা যাওয়ার পর সকলের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
কিন্তু তার স্বাধীনতা বিরোধী মনোভাব, চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করার অভিযোগে বিভিন্ন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পিয়াস করিমের মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান তারা।
বুধবার মরদেহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নিয়ে আসার কথা থাকায় সকাল থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় বিভিন্ন সংগঠন। ছাত্রনেতারা জানান, এ ধরনের যে কোনো উদ্যোগ রুখে দিতে প্রয়োজনে শুক্রবার সকাল থেকেই শহীদ মিনারে অবস্থান নেবেন তারা।
পরে, বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে। সম্মেলনে ছাত্র নেতারা জানান, শহীদ মিনার স্বাধীনতার প্রতীক তাই কোনো অবস্থাতেই স্বাধীনতাবিরোধী কোনো ব্যক্তির সেখানে ঠাঁই হতে পারে না।
তারা জানান, পিয়াস করিমের মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়ার অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তবে ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।