মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও অবৈধভাবে সমুদ্র পথে বিদেশে যাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশিরা সঙ্গে আছেন মিয়ানমারের নাগরিকও রয়েছেন। নানা অসৎ উপায় অবলম্বন করে তারা পাড়ি জমাচ্ছেন প্রতিবেশি দেশগুলোতে।
গত সোমাবার সেন্টমার্টিনের প্রায় ১৩৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে গভীর সাগর থেকে ৫৯২ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা। তাদের অনেকে মিয়নমারের নাগরিক। তাদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু। মঙ্গলবার রাতে তাদের নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রামে।
বানৌজা দুর্জয় কমান্ডার নাঈম রহমান বলেন, মেডিকেল চেকআপের পর আটক এবং উদ্ধারকৃতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মালয়েশিয়া পাচারকালে উদ্ধার হওয়া এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চালান জানিয়ে নৌবাহিনীর এ কর্মকর্তা আরও বলেন, আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করা সম্ভব।
উদ্ধারের পর তারা বলেন, দালালের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে তারা এ পথে পা বাড়িয়েছিলেন।
নৌপথে অবৈধ উপায়ে মালেশিয়া, থাইল্যাণ্ড যাত্রা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছেছ না বাংলাদেশিদের। নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ বারবার এমন যাত্রীদের উদ্ধার করলেও সচেতন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ৬৯২ জনকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জড়ো করার পর ছোট ছোট বোট দিয়ে কক্সবাজার, টেকনাফসহ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে মালেশিয়া পাঠানোর চেষ্টা করে দালালরা।
মিয়ানমারের ২১ মিটার দীর্ঘ একটি কাঠের নৌকায় তাদের তোলা হয়। সেখানেই ঠাসাঠাসি করে লোকগুলোকে ১৫ দিনের মতো অনাহারে, অর্ধাহারে কাটাতে হয়। খাবার চাইলে করা হয় নির্যাতন। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নৌঘাঁটির আরআরবি বার্থে আনার পর সেই করুণ কাহিনীর বর্ণনা দিলেন উদ্ধারকৃতরা।
উদ্ধার হওয়া ৫৯২ জনের মধ্যে দালাল, নারী-শিশুসহ ৯৪ জনই মিয়ানমারের নাগরিক। তারা বলেন, তাদের স্বজনরা মালয়েশিয়া আছেন বলেই তারাও সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকের কাছ থেকে টাকাও নেয়নি বলে জানান কেউ কেউ।