সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অভিনব উদ্যোগই সবচেয়ে পরিবর্তন আনতে পারে বলে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
বুধবার রাজধানীতে শিশু অধিকার কনভেনশনের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক বলেন, 'বৈষম্য মানব সভ্যতার মতোই পুরনো, আর নতুন উদ্যোগও তাই-এবং এটা সবসময় মানব সভ্যতাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।'
তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান পৃথিবীতে, যা আগের চেয়েও বেশি সুসংঘবদ্ধ, সেখানে স্থানীয় সমাধান বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে কল্যাণ হবে সেই সমস্ত শিশুদের যারা বিভিন্ন দেশে এখনও প্রতিদিন বৈষম্য ও অবিচারের শিকার হচ্ছে।
লেক বলেন, নতুন উদ্যোগ নিয়ে প্রতিটি শিশুর আরো বেশি কল্যাণ করতে হলে আমাদেরকে আরো বেশি উদ্ভাবনশীল হতে হবে- বারবার চিন্তা করতে হবে আমাদের পুরনো সমস্যাগুলোর সমাধানে কিভাবে নতুন নতুন ধারণা কাজে লাগানো যায়। আমাদের সামনে কঠিনতম চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান কেবলমাত্র ঊচ্চপর্যায় থেকে নিচের দিকে বা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে উপরের দিকে, কিংবা এক জাতিগোষ্ঠী থেকে অন্য জাতিগোষ্ঠীতে আসবে না। তারা আসবে নতুন সমস্যা সমাধানের নেটওয়ার্ক ও উদ্ভাবনী সম্প্রদায় থেকে, যা সকল সীমানা এবং ক্ষেত্র অতিক্রম করে সবচেয়ে দুর্গম অঞ্চলেও পৌঁছাতে পারবে। এমনকি এই সমাধান আসবে যুব সমাজ, কিশোর এমনকি শিশুদের কাছ থেকেও।
পাশাপাশি অভিনব উদ্যোগের সুফল লাভ থেকে লাখ লাখ শিশু যাতে বঞ্চিত না হয় সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলেও 'বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি' শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত এ সংস্থাটির মতে, প্রতিটি শিশুর কাছে নতুন উদ্যোগের সুফল পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সংযোগ ও সহযোগিতা প্রেরণা যোগাতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি-নতুন রূপে ভবিষ্যৎ দর্শন: প্রতিটি শিশুর জন্য নতুন উদ্যোগ' স্লোগানটি সকল সরকার, পেশাজীবী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা সকলে একত্রে শিশুরা যেসব গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে সেগুলো মোকাবেলায় নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করেন এবং স্থানীয় ভিত্তিতে বিদ্যমান সর্বাধিক উপযোগী ও প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন উদ্যোগগুলোকে আরো জোরদার করার উপায় খুঁজে বের করেন।
ইউনিসেফের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই প্রতিবেদনটি বহু উৎস থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সব উদ্যোগ সংক্রান্ত তথ্যের একটি সংকলন। এতে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত নতুন সব উদ্যোগ মানচিত্রায়নের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের এই সংকলনে/মানচিত্রে তাদের স্ব স্ব উদ্যোগ ধারণা সন্নিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৯ সালে শিশু অধিকার কনভেনশনটি গ্রহণ করে। তখন থেকেই, শিশু অধিকার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে-পাঁচ বছর বয়সের আগে শিশুমৃত্যু ব্যাপকভাবে কমেছে এবং বেড়েছে শিশুদের জন্য শিক্ষা ও পরিষ্কার পানির সুযোগ। তা সত্ত্বেও প্রতিদিন লাখ লাখ শিশুর অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের ধনীতম ২০ শতাংশ শিশুর তুলনায় বিশ্বের দরিদ্রতম ২০ শতাংশ শিশুর পঞ্চম জন্মদিনের আগেই প্রাণ হারানোর সম্ভবনা দ্বিগুণ, স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে প্রায় প্রতি চারজনের মধ্যে একজন শিশু শিশুশ্রমে নিয়োজিত, এবং লাখ লাখ শিশু প্রতিনিয়ত বৈষম্য, শারীরিক ও যৌন অত্যাচার ও নির্যাতন ও অবহেলার শিকার।
ইউনিসেফের সর্বশেষ এই ফ্ল্যাগশিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন উদ্ভাবন, যেমন- খাবার স্যালাইন অথবা তাৎক্ষণিকভাবে খাওয়া যায় এমন তৈরি খাদ্য গত ২৫ বছরে লাখ লাখ শিশুর জীবনে আমূল পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আরো নতুন নতুন পণ্য, পদ্ধতি এবং অংশীদারিত্ব দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রতিবেদনটিতে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারঅ্যাকটিভ বিষয়সমূহ। এগুলোর মাধ্যমে পাঠককে তার নিজস্ব ধারণা ও উদ্ভাবনী বিষয়সমূহ তুলে ধারার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদনে অসামান্য উদ্ভাবনগুলোকে অধিকতর গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো ইতিমধ্যেই বিশ্বের বহু দেশে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে।