মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্মারক ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা সংস্কার করা হয়েছে। পরিবর্তন এসেছে এর রঙে। এতে এর মৌলিক নান্দনিকতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থপতি ও শিল্প সমালোচকরা। তবে তাদের দাবি মানতে নারাজ খোদ ভাস্কর। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে অন্তত শিল্পীর জীবদ্দশায় তার নির্মিত ভাস্কর্যের সংস্কারে শিল্পীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটুক।
স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের প্রতীক অপরাজেয় বাংলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে অবস্থিত এ ভাস্কর্য।
১৯৭৩ সালে ডাকসুর উদ্যোগে এর নির্মাণকাজ শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে। ৪ বছর পর আবার ১৯৭৯ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণ শেষে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর অপরাজেয় বাংলার উদ্বোধন হয়। ৬ ফুট চওড়া বেদীর ওপর নির্মিত এ ভাস্কর্যের ঊচ্চতা ১২ ফুট, প্রস্থ ৮ ফুট, ব্যাস ৬ ফুট।
ফিগারগুলোর মাথার কাছে ফাটল দেখা দেয়ায় সম্প্রতি ভাস্কর্যটি সংস্কার করা হয়েছে। ভাস্করের তত্ত্বাবধানেই এতে সাদা ও ধূসর সিমেন্টের প্রলেপ দেয়া হয়েছে, পরিবর্তন এসেছে এর চেহারায়। এ পরিবর্তনের ফলে এর নন্দনতাত্বিক ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। নান্দনিকতা ক্ষুণ্ণ করে সংস্কার করার অধিকার শিল্পীর নেই বলেও মনে করেন স্থপতি ও শিল্প সমালোচক সামসুল ওয়ারেস।
তবে ভাস্কর আবদুল্লাহ খালিদ তা মানতে নারাজ।
একই মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও। ভবিষ্যতে এর পুনঃসংস্কার নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত।
তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও এই ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক হয়েই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রেরণা জোগাবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।