লাইফস্টাইল

ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

নূর হোসেন
নূর হোসেন

আজ ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের এ দিনে তীব্র আন্দোলন ও গণঅভুত্থানে পতন হয় স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। এরপর এ ২৪ বছরে সরকার বদল হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু সেই এরশাদকেই প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি নিজেদের জোটে ভিড়িয়েছে। এখনো রাজনীতির মাঠে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থান নিয়েই টিকে রয়েছেন এরশাদ।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ। বন্দুকের নলের মুখে রক্তপাতবিহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন সেনাবাহিনী প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এরপর ৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। ওই দিনই দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা নিজের অধিকারে নেন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আ ফ ম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে।

১৯৮৩ সাল থেকেই এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নামে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ১৫ দলীয় জোটের ও বিএনপি ৭ দলের নেতৃত্ব দেয়। আর অন্য ৫টি বাম দলও শরীক হয় আন্দোলনে।

১৯৮৬ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ওই বছরের ৭ মে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ৮টি দল অংশ নিলেও বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করে।

৮৭-তে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ১০ নভেম্বর দেশের দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাদের একমাত্র দাবি ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় বুকে পিঠে সাদা রঙে 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' লিখে মিছিলে অংশ নেন নূর হোসেন। মিছিলটি ঢাকা জিপিও-এর সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নিহত হন নূর হোসেনসহ তিন জন। আহত হন অনেকেই। ওই ঘটনা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

উত্তাল আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যায় ৯০ এর ডিসেম্বরে, আন্দোলন রুপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। গণবিক্ষোভের চাপে এবং সেনাবাহিনীর সমর্থনের অভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা আর ৬ তারিখ তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের।

৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপির ক্ষমতাগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গণতন্ত্রের নবযাত্রা।

আওয়ামী লীগ দিনটিকে পালন করে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস হিসেবে। আর বিএনপি পালন করে স্বৈরাচার পতন দিবস হিসেবে।

সেদিন যারা এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন, রাজনীতির প্রয়োজনে তারাই আবার কাছে টেনে নিয়েছেন এরশাদকে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দ'দুলের সঙ্গেই জোটভুক্ত হয়ে রাজনীতি করেছেন এরশাদ। আর এখন তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারেরই অংশ, সংসদে তার দল জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে থাকলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণতন্ত্রের দুই প্রধান দাবিদার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ব্যর্থতা ও দুর্বলতার কারণে আজও রাজনীতির মাঠ সরগরম করতে পারছেন এরশাদ।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়বে যেসব খাবারে

সকালে দেরিতে নাশতা, বাড়তে পারে ডায়াবেটিস

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ‘গুড প্যারেন্টিং’ জোরদারের তাগিদ

যেসব সবজি রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়

যে সব ভুলে গোসলের সময় হতে পারে হার্ট অ্যাটাক

যা করবেন শিশুর ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখলে

রোজ যতটা হাঁটলে ঝুঁকি কমবে হার্ট অ্যাটাকের

কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দেয় বসের যে কথাগুলো

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ