মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বগাঁথাকে বড় করে দেখা হলেও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বৈশিষ্ট হচ্ছে গণহত্যা আর নির্যাতন। বাঙালির ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন যদি এতো ভয়াবহ না হতো তাহলে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ সম্ভব হতো না। গণহত্যার পাশাপাশি নির্যাতন, ধর্ষণ, বাস্তুচ্যুত করার এসব চিত্র তুলে ধরতে হবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সব ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে।
এ লক্ষ্যে গণহত্যা ও নির্যাতনের ইতিহাস সংরক্ষণে খুলনাতে গড়ে তোলা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর। গড়ে তোলা হচ্ছে গণহত্যা ও নির্যাতন সম্পর্কিত একটি তথ্য ভাণ্ডার।
পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে পকিস্তানি শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মার্চেই রুখে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। অসহযোগ আর প্রতিরোধ সংগ্রামে জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বার আন্দোলনে। ৭ মার্চে আসে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক আর ২৬ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা।
শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি হায়নাদের রুখতে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় বাংলাদেশ। রক্তে জেতা এ স্বাধীনতা বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। এরসঙ্গে জড়িয়ে আছে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের গৌরব। গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ৯ মাসে এতো বেশি মানুষের গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা বিরল পৃথিবীর যে কোনো মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে বলে জানান লেখক ও শিক্ষাবিদ মুনতাসীর মামুন।
গণহত্যা-নির্যাতনের এ ইতিহাস ধরে রাখতে খুলনায় গড়ে তোলা হচ্ছে আর্কাইভ ও জাদুঘর। চিহ্নিত করা হয়েছে সাড়ে ৯০০ বধ্যভূমি। চলছে প্রত্যেকটি গণহত্যার ঘটনা মাঠপর্যায়ে থেকে তদন্ত করে লিপিবদ্ধ করার কাজ। এছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন নির্ঘন্ট গ্রন্থ্যমালা। এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ১০টি বই বলে জানান মুনতাসির মামুন।