শিশুদের উপর চালানো নানা গবেষণার বরাত দিয়ে কিছু কিছু মনোবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ বাবা- মা সন্তানের মন বোঝেনা। এজন্য অনেক সময় বাবা মার নেতিবাচক আচরণের কারণে সন্তানের মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়। বিশেষ করে মা এর ভুমিকা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিশুদের উপর। এজন্যই হয়তো নেপোলিয়ান বলেছেন, আমাকে একটি ভালো মা দিন আমি একটি ভালো জাতি উপহার দেবো।
গবেষকেরা বলে থাকেন- শিশুদের সামনে সব সময় না শব্দটি বলা এগিড়ে চলতে হবে। তাতে করে শিশুরা ইতিবাচক মানুষ হিসেবে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এমন কিছু সময় আছে যেখানে না বলা ছাড়া উপায় থাকে না, সেখানে একটু কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, সবসময় এটা করো না, ওটা করোনা, এদিকে যেও না, ওটা ধরো না- এত এত না শুনতে বাচ্চাদেরও ভালে লাগেনা। বাচ্চারা অনুকরণ প্রিয় হয়। আর এভাবে সবকিছুতে না শুনতে থাকলে তারাও নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠবে। তখন তাদের মধ্যেও 'না' এর প্রভাব থেকে যাবে।
আপনার না বলা খারাপ কাজের পাশাপাশি ভালো কাজের ব্যাপারেও শিশুদের দিক থেকে 'না' আসবে। যেমন অনেক সময় দেখা যায় শিশুরা কেউ কিছু চাইলে দিতে চায়না, কারো সাথে ভালোভাবে কথা বলতে বললে বলতে চায় না। তার নাম পরিচয় জানতে চাইলে বলে না। তাহলে আপনি কি করবেন? তাকে না বলা বন্ধ করে যা তা করতে দেবেন? মোটেই না।
আপনি তাকে 'না' বলুন, কিন্তু সেটা 'হ্যাঁ' এর মধ্য দিয়ে বলুন। আপনার সন্তান কিছু চাইলে যা তার জন্য অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর তখন তাকে সরাসরি 'না' না বলে ঐ জিনিসটির ভালো খারাপ দিক তুলে ধরে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এতে তাকে না বলতে যেমন হবেনা তেমনি সে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া শিখবে। আপনি সন্তানের সাথে না বলার চর্চা এড়িয়ে চললে সেও ইতিবাচক চিন্তাধারায় বেড়ে উঠবে।
সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান সব বাবা-মা। তারপরও অনেক সময় অজান্তেই তারা ভুল পদ্ধতি অনুসরণ করে ফেলেন। বেড়ে ওঠার শুরু থেকেই ছোট্ট শিশুটিকে নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করে চিন্তাজগতে বাঁধা দেয়।
আর সন্তানকে সবক্ষেত্রে না করাটা বাবা মায়ের জন্যও খারাপ লাগার। বিশেষ করে একেবারে ছোট শিশু কিংবা কৈশোরে থাকা সন্তানকে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে না করা ছাড়া উপায়ও নেই৷ কারণ সন্তানেরা না জেনেই অনেক কাজ করতে চায় যা তার জন্য বিপদজনক। এই যেমন আপনার ছোট্ট সন্তানটি যদি পানিতে নামতে চায় তখন নিশ্চয়ই তাকে সেটা করতে দেওয়া যায় না। এক্ষেত্রে আপনাকে তো না করতেই হবে। কিন্তু চেষ্টা থাকবে না শব্দটা তার কানে যত কম শোনানো যায়, তারজন্য সেটা তত কল্যাণকর হবে।