নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ছয় জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে বন্দরের কলাগাছীয়া এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নজরুলের ভাই আবদুস সালাম তার মৃতদেহ সনাক্ত করেন।
উদ্ধার হওয়া তিন জনের নাম: মুনিরুজ্জামান স্বপন ও অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়ির ড্রাইভার ইব্রাহিম ও তাজুল ইসলাম। তাদের স্বজনেরা এ মৃতদেহ সনাক্ত করেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার চার সহযোগীসহ অপহৃত হওয়ার ৩ দিনের মাথায় বেলা ৩টার দিকে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে মৃতদেহগুলো ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। তবে একজনের পরিচয় এখনো সনাক্ত করা যায়নি।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি আক্তার মোর্শেদ বলেন, এরইমধ্যে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারমধ্যে ৫ জনের মরদেহ সনাক্ত করা হলেও একজনের নাম জানা যায়নি।
আক্তার মোরশেদ জানান, বুধবার দুপুর ৩টার দিকে স্থানীয়রা শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিতভাবে একে একে এ মৃতদেহগুলো তুলে আনা হয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ৬টি মরদেহের মধ্যে একটি নজরুলের বলে শনাক্ত করেন তার ছোট ভাই আব্দুস সালাম। এরপর নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জান স্বপনের লাশ শনাক্ত করেন তার ছোট ভাই রিপন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের গাড়িচালক ইব্রাহিমের লাশ শনাক্ত করেন তার ভাগ্নে আবু বকর ও সাঈদ। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে নজরুলের আরেক সহযোগী তাজুল ইসলাম রাসেলের মরদেহ শনাক্ত করেন তার ছোট ভাই আনিস। বাকি একজনের পরিচয় এখনো মেলেনি।
বন্দর থানার ওসি আরো বলেন, প্রতিটি মরদেহের হাত-পা বাঁধা ছিল। মৃতদেহের সঙ্গে দুটি করে ইটের বস্তা বাঁধা পাওয়া যায়। প্রতিটি বস্তার মধ্যে ১০-১২টি ইট ছিল। লাশ যেন ভেসে উঠতে না পারে সেজন্য দুর্বৃত্তরা এ অবস্থা করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নজরুল ইসলামের লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেছে তার পেট কাটা ছিল। গত রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র-২ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগীকে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারসহ অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমও নিখোঁজ হন।
এদিকে, সকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন এলাকাবাসী। সকাল থেকে অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারকে উদ্ধারের দাবিতে আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মহাসড়ক অবরোধের পর সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় অবরোধকারীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করছেন।
গতকাল এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রাশাসক, পুলিশ সুপার ও র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্র্যাব-১১ এর সিও, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৫ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার মামলার হাজিরা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে বের হওয়ার সময় নজরুল ইসলাম ও এক ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জনকে র্যা ব পরিচয়ে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। একই সময়ে নিখোঁজ হন নারায়ণগঞ্জ বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম।