অপহরণ, গুম, হত্যা প্রতিবাদে আগামী রোববার নারায়ণগঞ্জে হরতাল ডেকেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, অপহরণ, গুম, হত্যার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত।
সমাবেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হরতাল চলাকালে সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের সামনে আইনজীবীদের সমাবেশ হবে।
সমাবেশে বার কাউন্সিলের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন যোগ দিয়ে বলেন, এ সরকার খুন ও গুম বন্ধ করতে ব্যর্থ। অপহরণের পর তাদের উদ্ধার করতে পারছে না। এসব অপরাধীকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সভা শেষে খন্দকার মাহবুবসহ আইনজীবীরা জালকুড়িতে চন্দন সরকারের বাসায় যান। সেখানে তারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।
এর আগে সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যার প্রতিবাদে তার সমর্থকরা সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় বিক্ষোভ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সিদ্ধিরগঞ্জে বাংলাদেশ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ মালিক সমিতির অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা শিমরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার পর মহাসড়কে পুলিশ ও বিজিবি টহল দিচ্ছে। তবে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করছে না। নারায়ণগঞ্জ থেকে গত রোববার একসঙ্গে সাতজন অপহূত হন। তারা হলেন: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ইব্রাহিম।
গতকাল দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন: নজরুল, চন্দন কুমার, মনিরুজ্জামান, তাজুল ও ইব্রাহিম। অপর লাশটি নজরুলের বন্ধু লিটনের, নাকি গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলমের তা শনাক্ত হয়নি। আজ আরেকটি লাশ পাওয়া গেছে।