নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত হত্যা মামালার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি। শনিবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়েছে।
এসময় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি, নজরুলের ভাই আব্দুস সালাম, আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে ডা. সেজুতি সরকার, জামাতা ডা. বিজয় কুমার পাল, তাজুলের পিতা আবুল খায়ের, লিটনের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিমের পিতা আব্দুল ওহাব, স্ত্রী অনুফা বেগম, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শামসুন নাহার নুপুর, স্বপনের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ নিহত সাত জনের কারো রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক,আর্থিক লেনদেন, জমি সংক্রান্ত, বা পারিবারিক বিরোধ ছিলো কি না সে সব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, হাইকোর্টের নিদেশে গঠিত তদন্ত কামটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য-উপাথ্য সংগ্রহ করছেন, এসব তথ্য যাচাই বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তারা তাদের চিহিৃত করে রিপোর্টট প্রদান করবেন। গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ওই দিন দুপুরে তদন্ত কমিটি নারায়ণগঞ্জে আসে এবং পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ মের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
কমিটির কার্যপরিধি: কমিটি গণতদন্তের মাধ্যমে সাতজন অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে প্রশাসনের কোনো সদস্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটন করবে। এ ছাড়া অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপহূত ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ণয় করবে। কমিটি সাত দিনের মধ্যে তদন্তকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করবে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই উপসচিব মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উপসচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহরণ হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তার চার সহযোগী। প্রায় একই সময়ে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহূত হন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিন দিন পর গত ৩০ এপ্রিল একে একে ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পাওয়া যায়। তারপর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ৪ মে র্যা বের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নজরুলকে র্যা ব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এ জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছেন র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা।