নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। রোববার সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত রেস্ট হাউসে সাক্ষ্য দেন তারা। এতে সাধারণ মানুষও অংশগ্রহণ করেন।
চতুর্থ দফার এ গণ শুনানিতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ২৫ জন সাক্ষী তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মদদে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে-এমন মন্তব্যও করেছেন অনেক সাক্ষী।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি এ গণশুনানির নেতৃত্ব দেন।
এদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত রেস্ট হাউসে শনিবার হাইকোর্টের নির্দেশে তৃতীয় দফায় প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাক্ষ্য দেন ১৭০ জন।
নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে ১২ ও ১৫ মে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার গণশুনানি হয়। ১৫ মে গণশুনানিতে অংশ নেন ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। সিদ্ধিরগঞ্জে গণশুনানি আয়োজন করতে কমিটিকে আহ্বান জানান তিনি।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহৃত হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তার ৪ সহযোগী। প্রায় একই সময়ে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহৃত হন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল একে একে ছয় জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের মৃতদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়।
নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ৪ মে র্যা বের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ওই সময় তিনি দাবি করেন, নজরুলসহ অন্যদের র্যা ব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়েছেন র্যা বের কয়েকজন কর্মকর্তা।