নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ত্রাণ দুর্যোগমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার পদত্যাগ দাবি করেছেন নিহতদের পরিবার, আইনজীবীরা ও মানবাধিকার কমিশনের নেতারা।
সাত হত্যার প্রতিবাদ এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে আইনজীবীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ সমাবেশে জড়িতদের আশ্রয় প্রশয়ের অভিযোগ তুলে মন্ত্রী মায়া ও স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
আইনজীবী চন্দন সরকার ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত জনকে অপহরণের পর হত্যার পর থেকে আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কর্মবিরতী পালন করেন আইনজীবীরা। দুপুর একটা থেকে দুইটা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়ার হোসেন খান, অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ।
এ সময় সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, এ মামলার মুল অভিযুক্ত হচ্ছেন একজন মন্ত্রীর জামাতা। তার ছেলেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এ ঘটনায়। তাই যতদিন পর্যন্ত মোফাজ্জল হোসেন মায়া মন্ত্রী থাকবে ততদিন এ ঘটনার সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত হবে না। তাই তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে, নুর হোসেনকে আশ্রয় প্রশয়ে রেখে পালিয়ে যেতে সহয়তার অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের পদত্যাগ দাবি করেছেন মানবাধিকার কমিশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
এদিকে, সাত খুনে দায়ের করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারের মেয়ে সেজুতি সরকার।
এদিকে, ২০০৬ সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা করা হয় টিপু সুলতান নামে আরেক যুবককে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে নিহত টিপু সুলতানের পিতা আক্তার হোসেন বাদি হয়ে সাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেনসহ ৬ জন ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে আদালতে।
উল্লেখ, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহরণ হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তার চার সহযোগী। প্রায় একই সময়ে একই সড়ক থেকে গাড়িচালকসহ অপহূত হন আইনজীবী চন্দন সরকার। তার তিন দিন পর গত ৩০ এপ্রিল একে একে ছয় জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের মৃতদেহ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পাওয়া যায়।
তারপর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ৪ মে র্যা বের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, নজরুলকে র্যা ব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এ জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছেন র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা।