অপহরণ নয়, কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে আটক করেছিলো র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বলে এমন দাবি করেছেন ৭ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া র্যাবের চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তা। শুক্রবার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা বলেন তারা।
তবে এ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালককে আটকের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তারা। এ ব্যাপারে হাইকমান্ড সব জানেন বলে জানান তারা।
এদিকে, এজাহারভূক্ত কোনো আসামি এখনো গ্রেপ্তার না হলেও পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনের দাবি, তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। তবে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে সময় লাগবে।
নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তার মধ্যে বৃহস্পতিবার দুই কর্মকর্তার প্রথম দফা রিমান্ড শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন তারা। জানা গেছে, ৫ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিকে সাবেক র্যা ব কর্মকর্তারা মুখ না খুললেও পড়ে কথা বলতে শুরু করেছেন।
মেজর আরিফ স্বীকার করেছেন, নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলকে আটক করে র্যাব। তবে আরিফের দাবী, টাকার বিনিময়ে অপহরণ নয়, অবৈধ অস্ত্রের জন্য নজরুলকে আটক করা হয়েছিলো। আর এ্যাডভোকেট চন্দন সরকারকে কেন আটক করা হয়, আর কেনই বা ৭ জনকে খুন করা হলো, এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথম দফায় চুপ ছিলেন ওই দুই কর্মকর্তা। পরে তারা বলেন, হাইকমান্ড সব জানেন।
এদিকে, ৭ হত্যাকাণ্ডের মামলায় এজাহারভুক্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। এর আগে শ্রমিক দল নেতা আবুল হাশেম হাসুকে গ্রেপ্তারের যে খবর বেরিয়েছিলো, তাও সঠিক নয়।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি সাবেক পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে রোববার জিজ্ঞাসাবাদের ঘোষণা দিলেও, পুলিশের তদন্তে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন পুলিশ সুপার।
তবে তদন্তের প্রয়োজনে অপহরণের দিন কোর্ট প্রাঙ্গণে আটক র্যাব সদস্যকে ও পরে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।