ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরাম হত্যার নেপথ্যে কাজ করেছে স্থানীয় পর্যায়ের নোংরা রাজনীতি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়াদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। নিহত একরামের স্বজনদের অভিযোগ আর স্থানীয় রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার দেয়া বক্তব্যে উঠে আসে এমন তথ্য।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরাম হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করছে ১৩ জনকে। যাদের বেশির ভাগই সরকার দলীয় স্থানীয় সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন তদারককারী আওয়ামী লীগের দুই নেতা জাহিদ চৌধুরী ও আবদুল্লাহিল বাকী শিবলুও সাংসদের ঘনিষ্ঠ। র্যাবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী একরামকে যিনি গুলি করেছে সেই আবিদুল ইসলাম বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত। তার মা লায়লা জেসমিন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আর ফুফাত ভাই হলেন ফেনী-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী।
আবিদের সঙ্গে এ হামলায় আরো অংশ নিয়েছিলো ছাত্রদল-যুবদলের কয়েকজন। গ্রেপ্তারকৃতদের ভাষ্য অনুযায়ী, একরাম হত্যায় সরাসরি জড়িত চৌধুরী নাফিজ উদ্দীন-অনিক জাতীয়তাবাদি তাতী দলের আহ্বায়ক ও এ হত্যা মামলার এজহারভূক্ত প্রধান আসামি মিনার চৌধুরীর ভাতিজা। অনিকের বাবা দিদার চৌধুরী ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদুল ইসলাম-সৈকত পরশুরাম উপজেলা পরিষদের বিএনপি সমর্থিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তারের ছেলে।
এ হত্যাকাণ্ডে আর অন্য যারা সহযোগী ছিলেন তাদের বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মিছিল মিটিংএ দেখা যেতো।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতাদের মতে, একরাম হত্যার ঘটনায় লাভবান হয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের একাধিক পক্ষ। যেখানে অংশ নিয়েছে বহুদলীয় বাহিনী।
একরাম সমর্থকদের মতে ফেনীর একসময়ের সন্ত্রাসের গডফাদার জয়নাল হাজারীকে স্থানীয় রাজনীতি থেকে হটানোর ক্ষেত্রে নিজাম হাজারীর বড় সহযোগী শক্তি ছিল একরাম। তবে এ দুজনের মধ্যে চলছিল দ্বন্দ্ব। একরাম হত্যার পর কিছুটা চাপে পরেন নিজাম হাজারী।
এদিকে, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফেনীর রাজনীতিতে আবার জায়গা করে নিতে চান জয়নাল হাজারী।
এর আগে ১৯৯৯ সালে একই স্থানে ফুলগাজী যুবলীগের নেতা আবুল বশর ওরফে বইশ্যাকে কুপিয়ে ও গুলি করে খনু করে এ জাহিদ ও তার বাহিনী। তখন প্রচার ছিল একরামের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে তার নির্দেশেই বশরকে হত্যা করে জাহিদ।