নায়েক মিজানুর রহমানের অপহরণ ও গুলিবর্ষণকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের পাইনছড়ি ৫২ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপির সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির গোলাগুলি চলছে। শুক্রবার বিজিবির অপহৃত সদস্য মিজানুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মৃতদেহ ফেরত দেয়ার জন্য পতাকা বৈঠকের আহ্বান উপেক্ষা করে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ গুলিবর্ষণ শুরু করলে বিজিবি সদস্যরা বাধ্য হয় পাল্টা জবাব দিতে। বান্দরবান থানার পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গুলি বিনিয়ম চলছে।
বৃহস্পতিবার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের পাইনছড়ির ৫২ নম্বর পিলারের এলাকায় গুলিবর্ষনের পর বিজিবি সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মায়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ- বিজিপি। ঘটনার পরপরই বিজিবি মিয়ানমারের বিজিপিকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানালেও তারা কোন সাড়া দেয়নি। উল্টো বিজিপি নিখোঁজ বিজিবি সদস্যকে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া বিজিবি নায়েক মিজানুর রহমান মারা গেছেন।
শুক্রবার বিজিবি সদস্য নায়েক মো. মিজানুর রহমানের মৃতদেহ ফেরত দেয়ার কথা ছিল। তবে, মিজানের মৃতদেহ ফেরত না দিয়ে অপেক্ষমান বিজিবি সদস্যের উপর অতর্কিত গুলি চালায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবিও এর পাল্টা জবাব দেয়।
উল্লেখ্য, বান্দরবানের পাইনছড়ির ৫২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে টহলরত বিজিবির দলের ওপর অর্তকিতে নির্বিচারে গুলি চালায় মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ। এরপর ৫ গ্রামবাসীসহ নিখোঁজ হন নায়েক মিজানুর রহমান। পরে গ্রামবাসীরা ফিরে এলেও পাওয়া যায়নি নায়েক মিজানুর রহমানকে। বিজিবি দাবি করে আহত মিজানকে মিয়ানমারকে নিয়ে যায় বিজিপি। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এদিকে, নায়েক মো. মিজানুর রহমানকে আটক ও সীমান্তে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব মুস্তফা কামাল তার দপ্তরে ডেকে পাঠান। তিনি এসময় অবিলম্বে বিজিবির নায়েক মো. মিজানুর রহমানের মুক্তির দাবি জানান। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। এসময়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগামী দিনে এ ধরনের তৎপরতা রোধে বিস্তারিত তদন্তেরও দাবি জানানো হয়।
এ নিয়ে মে মাসে টানা ৩য় বারের মত মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও আতংক বিরাজ করছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার ১৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে বিজিবি সদস্য।