ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলার আসামি প্রকৌশলী রাসেলকে ৩ রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল আদালত। সোমবার দুপুরে আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ খায়রুল আমিন এ আদেশ দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, দ্বিতীয় দফায় আসামি রাসেলের ৬ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রাসেল একরাম হত্যার বিষয়ে যথাযথ স্বীকারোক্তি না দেয়ায় তাকে আবারো রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
এর আগে একরাম হত্যা মামলার আরেক আসামি আবু বক্করকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এ আদেশ দিয়েছে। এ সময় পুলিশ আবু বক্করের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিন মঞ্জুর করে।
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাইরুল আমিনের আদালতে একরাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আবু বক্করকে হাজির করলে এ আদেশ দেন তিনি।
রিমান্ডে থাকা আসামি আরমান হোসেন কাওসার ও সাইদুল ইসলাম পবনের দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুনরায় ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত প্রত্যেককে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে জানান তিনি।
একই আদালতে এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলু, আওয়মী লীগ নেতা জাহিদ চৌধুরী জিহাদ, বেলাল হোসেন পাটোয়ারী, সাংসদ নিজাম হাজারীর মামাতো ভাই আবিদুল ইসলাম আবিদসহ ২১ আসামিকে হাজির করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এ নিয়ে পুলিশ ও র্যাব একরাম হত্যার ঘটনায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একরাম হত্যার সঙ্গে জড়িত এ পর্যন্ত ১৩ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে বহনকারী গাড়ি থামিয়ে গুলি করে, কুপিয়ে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই গাড়ির ভেতর পুড়ে মারা যান একরামুল।
পরে দিবাগত রাত ১টার দিকে একরামুলের বড় ভাই রেজাউল হক ফেনী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় জেলা তাঁতী দলের আহ্বাক ও উপজেলা নির্বাচনে (একরামুলের বিপক্ষে) বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে আরো ৩৫ জনকে ‘অজ্ঞাত’ আসামি করা হয়।
এ ঘটনায় ২৫ জনকে আটক করা হলেও পরে ২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাকিদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।