চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন রহমান নগর এলাকায় টানা বর্ষণে একটি কলোনির সীমানার দেয়াল ধসে মো. আসলাম (২২) নামে একজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরো দুই জন। হতাহতরা সবাই নির্মাণ শ্রমিক।
আহত ব্যক্তিরা হলেন : মো. মামুন (২৫) ও শেফাজুল (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে পাশে থাকা কাঁচা বসতবাড়ির ওপর কলোনির সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সকালে ঘটনা গিয়ে ৩ জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিত্সক।
এছাড়া, উপকূলীয় জেলাগুলোতে জলোচ্ছাস ও চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বহিনোঙর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজ বার্থিং।
নিম্নচাপের ফলে তিন দিন ধরে টানা বর্ষণে ডুবে গেছে বন্দরনগরীর চকবাজার, হালিশহর, বাকলিয়া, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও-এর আবাসিক এলাকাসহ বেশিরভাগ জায়গা। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ির নিচতলা ও দোকানপাট। ডবলমুড়িং, নাসিরাবাদ, পতেঙ্গাসহ নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। কোমর পানি পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বৃষ্টির কারণে বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস ও বোঝাই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে রয়েছে।
এদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ধাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।