অনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যভিচারের অভিযোগের দায়ে দিনাজপুরের একটি পরিবারের ওপর ফতোয়া জারি করেছে এলাকাবাসী। দীর্ঘ একমাসেরও বেশি সময় ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে তাদের। শুধু তাই নয় ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সকল প্রকার লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি এ ফতোয়ার আওতা থেকে বাদ যায়নি ওই পরিবারটির শিশুরাও।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আন্ধারমুহা পীরপাড়া গ্রাম। অভিযোগ রয়েছে গত ৪ মে এই গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোসলেমা বেগম উপজেলার ঘুঘুরতলী এলাকায় একজনের সঙ্গে ঘরে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হন। আর কথিত এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ মে পীরপাড়া জামে মসজিদে এক তরফা শালিস বৈঠকে বসে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। রায় হয় তাদের একঘরে রাখার। বাদ যায়নি ওই পরিবারের দুই সন্তানও।
গ্রামবাসীও ফতোয়ার রায় মেনে নিয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে বন্ধ রেখেছে সকল ধরনের যোগাযোগ।
আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের সঙ্গে আমাদের চলাফেরা চলবে না। তারা আরো বলেন কোরআন হাসিদ মেনে যে শাস্তি মেনে নিতেই হবে, সরদার, ঈমাম সাহেব, পীর সাহেব একই কথা বলছে। তারা যখন ঘটনা ঘটিয়েছে তাহলে তো একটি সিদ্ধান্তের মধ্যে আসতে হবে তাদের।
তবে পাশের বাড়ির সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলা কারণে এমন মিথ্যে অভিযোগ রটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ফতোয়া সাজাপ্রাপ্ত ওই পরিবারের। মোসলেমা বেগম বলেন, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার এলাকাবাসীর সহ্য করতে না পারায় তারা এটা আমাদের করেছে। কারও বিচার আমরা মানি না।
এদিকে, ফতোয়ার ঘটনাটি সর্ম্পকে কিছুই জানে না স্থানীয় প্রশাসন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন চিরিরবন্দরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।